মিঠাপুকুরে চাঁদাবাজি মামলায় মৃত ব্যক্তি, বৃদ্ধা-শিশুসহ একাধীক আসামী

স্টাফ রিপোর্টার:

মিঠাপুকুরে হতদরিদ্র কৃষকের বিরুদ্ধে ৭ চাঁদাবাজি মামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মামলাগুলোতে মৃত ব্যক্তি, বৃদ্ধা ও শিশুসহ একাধীক ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে। মামলার বোঝা টানতে নিঃস্ব হয়েছে পরিবারগুলো।

এছাড়াও, শত বছরের পুরোনো রাস্তা বন্ধ করে চলাচলের ব্যাঘাত সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে ওই প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদ করায় একালাবাসীর বিরুদ্ধেও একাধীক মামলা করার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নের বুজরুক মহদীপুর গ্রামে ঘটেছে এমন ঘটনা।

সরেজমিনে এলাকাবাসির সাথে কথা বলে জানা গেছে, কাফ্রিখাল ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামের মৃত ইমান আলীর ছেলে নজরুল ইসলামের কাছ হতে ২০০০ সালে ২০ শতক জমি ক্রয় করেন বুজরুক মহদীপুর গ্রামের আব্দুল জলিল ও তার ছেলে আনারুল হক। তারা ওই জমিতে বাড়ি নির্মাণ করে ৪ পরিবার বসবাস করছেন। এর বছর দশক পরে ওই জমি দাবী করেন প্রভাবশালী মাহবুবুল আলম। এ ঘটনায় একাধীকবার স্থানীয় পর্যায়ে শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু, কোন মালিকানা দেখাতে পারেননি মাহবুবুল।

এলাকাবাসী জানান, জমির মালিকানা প্রমাণে ব্যর্থ হয়ে মাহবুবুল আলম একের পর এক চাঁদাবাজি মামলা দায়ের শুরু করেন। আনারুল হক (৪০), নুরু মিয়া (৩০), বৃদ্ধা ওয়ারেছা বেগম (৮০), ছফি উদ্দিন (৯০)সহ ৬ জনকে আসামী করে মামলা করেন। এভাবে বছর দুয়েকের মধ্যে ৪টি চাঁদাবাজি মামলা করেন মাহবুবুল আলম। শেষ বয়সে মামলা-হামলায় শিকার হয়ে মারা যান ছপি উদ্দিন। পরে আদালতে ৩ মামলা নিষ্পত্তি হয়ে যায়। আবারও ৩টি মামলা করেন মাহবুবুল। সেখানেও মৃত ছফি উদ্দিনকে আসামী করা হয়। এছাড়াও, ভুক্তভোগী আনারুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের মামলার আসামী করা হয়েছে।

আনারুল ইসলাম বলেন, ‘২০ শতক জমির জন্য ৭টি চাঁদাবাজি মামলা আসামী হয়েছি। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া প্রায় ৩ বিঘা জমি বিক্রির টাকা মামলার পেছনে খবর হয়েছে। আমাদের পরিবারে বাড়িঘরগুলো ছাড়া কিছু নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাহবাবুল আলম প্রভাবশালী, অনেক টাকার মালিক। সে একর পর এক চাঁদাবাজি মামালা দিয়ে আমাকে পথে বসিয়েছেন, আমি তাঁর বিচার চাই।” নুরু মিয়া বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ, অন্যের কাজ করে খাই। মাহবুবুল আমাদের মামলা-হামলা করে জমি ছিনিয়ে নিতে চাচ্ছে। আমাদের জীবন গেলেও পৈত্রিক বসতভিটার জমি ছাড়ব না।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জায়গীর-মিয়ারহাট সড়কের দক্ষিণ দিকে বুজরুক মহদীপুর গ্রাম। সেখানেই বসবাস করেন আনারুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা। বাড়ির পূর্ব দিকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখেছেন মাহবুবুল আলম। এটি তার একটি প্রজেক্ট। সেখানে রয়েছে কিছু ছোট-বড় গাছ। কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কারণে ওই গ্রামের প্রায় ২০ পরিবারের চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়েছে। একটি পানিপূর্ণ নালার উপর দিয়ে নিদারুণ কষ্টে চলাচল করছেন তারা।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য জাহিদুল ইসলাম ও ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষ ও আমরা প্রায় একশ বছর ধরে ওই গ্রামের রাস্তা দিয়ে চলাচল করেছি। কয়েশ বছর আগে মাহবুবুল আলম আমাদের রাস্তাটি বন্ধ করে দেন। এখন আমাদের চলাচলের রাস্তা নেই।’

গ্রামবাসী রেদোয়ান ইসলাম, সৈয়দ আলী ও মমিনুর রহমান বলেন, ‘গ্রামের প্রায় সব মানুষের কোন না কোন ভাবে ক্ষতি করেছে মাহবুবুল আলম। তার বিরুদ্ধে কথা বললেই মামলা ও হামলার শিকার হতে হয়। একারণে ভয়ে কেউ কথা বলার সাহস পায়না।’

শফিকুল ইসলাম, ফখরুল ইসলাম ও আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘মাহবুবুল হক গ্রামে থাকেন না। ঢাকায় গার্মেন্ট ব্যবসার সাথে জড়িত। পাশের গ্রামের কিছু ভাড়াটে লোকজন দিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানী করেছে। তার মামলা-হামলায় গ্রামের প্রায় ১০ পরিবার নিঃস্ব হয়েছে।’

অভিযুক্ত মাহবুবুল আলম বলেন, ‘আমার পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমি তারা অন্যের কাছে ক্রয় করেছে। এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়াও, তারা আমার উপর মানুষজন নিয়ে হামলা চালায়। আমার কেউ নেই। তাই, থানা পুলিশের আশ্রয় নিয়ে মামলা করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকটি পরিবার আমার জমির উপর দিয়ে হাঁটতো, আমি সেটি বন্ধ করে দিয়েছি।’

মিঠাপুকুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি এখানে যোগদান করার আগে মামলাগুলো হয়েছে। এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা।’

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply