
নিউজ ডেস্ক:
মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়ার জন্মভুমি মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দে উদ্ধারকৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সম্পর্কে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক Swadhin Sen যা লিখেছেন পুরো লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হলো:-
আজকে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দে বেগম রোকেয়ার বসতভিটা সংলগ্ন জমিতে মসজিদ নির্মাণের জন্য জমি খোঁড়ার সময় ব্রোঞ্জের(?) তিনটি নিদর্শন পাওয়া গেছে।
নিদর্শনগুলোর ছবি দেখে ওই নিদর্শনগুলোকে ক্ষুদ্রাকৃতির কামান হিসেবে শনাক্ত করা যায়। একটি তুলনামূলকভাবে বড় আর বাকি দুটো ছোট। পশ্চিমা সাম্রাজ্য বিস্তারের অন্যতম বড় হাতিয়ার ছিল গান পাউডার এবং বিভিন্ন ধরনের বন্দুক, কামান আর বহনযোগ্য কামানের ব্যবহার। স্থলপথে, নৌপথে, এবং স্থায়ীভাবেই এই কামান ব্যবহার করা হতো। কামানের আবিষ্কার ও ব্যবহার আরো অনেক আগে শুরু হয়েছিল। মোগল আমলে বাংলা অঞ্চলে কামানের স্থলজ ও জলজ ব্যবহারে সাক্ষ্য আমরা বিভিন্ন সূত্রেই পাই। তবে পশ্চিমা সাম্রাজ্য বিস্তারের কালে, বিশেষ করে শিল্প বিপ্লব পরবর্তীকালে, পশ্চিম ইউরোপ জুড়েই নানা কোম্পানি বিভিন্ন ধরনের আর্টিলারি সামগ্রীর উপরে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও বিক্রয় শুরু করে। এই আর্টিলারি সামগ্রী কেবল ইউরোপীয় মালিকগনই শাসিত অঞ্চলগুলোতে ব্যবহার করেন নাই। স্থানীয় জমিদার ও সম্পন্ন পরিবারগুলো, বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় সেনাবাহিনী বা জমিদারের বাহিনি, উপনিবেশ-বিরোধী যুদ্ধের কুশীলবগণও এধরনের আর্টিলারি ব্যবহার করেছেন।

অনেক সময় এধরনের আরটিলারি ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের দৃশ্যমান প্রদর্শন হিসেবেও ব্যবহার করতেন। দেশী ও পশ্চিমা উভয় পক্ষই। নিচে পায়রাবন্দের নিদর্শন কামান আর তুলনীয় কামানের কিছু চিত্র ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করে দিলাম। এধরনের কামানের বিভিন্ন অংশের নাম এবং কামান বহনকারী শকটের বিভিন্ন অংশের নামসহ ছবিও দিলাম।
আগ্রহীগণ ওই সময়ের আরটিলারি আর তার ধরন নিয়ে লেখা ম্যানুয়াল এবং এনসাইক্লোপেডিয়া ধরনের বইপত্রও দেখতে পারেন।
এম২৪নিউজ/আখতার