বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র এখন নিজেই স্মৃতি মুরাল

মো. শামীম আখতার:

আজ ৯ডিসেম্বর, নারী শিক্ষা ও জাগরণের অগ্রদুত বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী। রোকেয়ার মৃত্যর ৮৯ বছর পরেও ওই এলাকায় নারীশিক্ষা ও অধিকারের বিষয়টি থেকে গেছে উপেক্ষিত।

বেগম রোকেয়ার স্মৃতিকে আগাসী প্রজন্মেরকাছে উপস্থাপন করতে রংপুরের পায়রাবন্দে যে স্মৃতি কোন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছে তাও এখন নিজেই স্মৃতির মুরালে পরিনত হয়েছে। কেবল জনবল নিয়োগ জটিলতায় ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ স্মৃতি কেন্দ্রটি প্রায় তিন বছর যাবত বন্ধ। এ ফলে স্মৃতি কেন্দ্রটির মূল্যবান লাইব্রেরি, সুদৃশ্য সেমিনার ও অডিটোরিয়াম কক্ষ, সেলাই মেশিন, সংগ্রতশালা ও গবেষণাকক্ষের সামগ্রী এখন অলসভাবে পড়ে আছে।

বেগম রোকেয়া ১৮৮০সালের ৯ই ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দরে সাবের পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩২ সালের ৯ই ডিসেম্বর তিনি কলকাতায় মারা যান। সেখানেই তাকে দাফন করা হয়। বেগম রোকেয়ার মৃত্যর ৮৯ বছর পরও তার লেখনী ও আন্দোলনের ঢেউ লাগেনি তার নিজ এলাকায়। এখনো বেগম রোকেয়ার জন্মস্থানের আশেপাশে বাল্যবিবাহ ও যৌতুক প্রথা চালু আছে। এখন পর্যন্ত এই এলাকায় পড়ালেখায় নারীদের উলে-খযোগ্য কোনো উন্নতি নেই। এমনকি বেগম রোকেয়ার জন্মস্থানটিও প্রভাবশালী মহলের লুলুপ দৃষ্টি থেকে রেহাই পায়নি। এমনিভাবে অবহেলায়-অযত্নে পড়ে থাকা বেগম রোকেয়ার স্মৃতিকে ধরে রাখতে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

রংপুরের মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দে ৩কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০১ সালের ১ জুলাই উদ্বোধন করেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা একাডেমীর তত্ত্বাবধানের পরে এই স্মৃতি কেন্দ্রটি উন্মুক্ত করে দেয়া হলে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ- উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, স্মৃতি কেন্দ্রে নিযুক্ত কর্মকর্তারা দীর্ঘ দিন বেতন পাওয়ার পর ২০০৪সালের জুন মাসে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

কর্মকর্তা- কর্মচারীদের বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জৌলুশ হারাতে থাকে স্মৃতি কেন্দ্রটি। বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ার একে একে সবাই চলে গেলেও এখানে থেকে যান গার্ড আব্দুল বাতেন ও মালি খোরশেদ আলম। তারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তিন বছর ধরে বেতন ছাড়াই এখানে কোটি কোটি টাকার মূল্যবান জিনিস হেফাজত করছি। বেতন হবে এই আশায় এখনো স্মৃতি কেন্দ্রের দেয়াল আঁকড়ে ধরে আছি।

মিঠাপুকুর (রংপুর): বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র এখন নিজেই স্মৃতি মুরাল

বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদের সভাপতি রাজু আহম্মেদ ও সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল বলেন, যে লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছে তার পুরোপুরি বাস্তবায়ন চাই।

বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রের উপ-পরিচালক আব্দুল্যাহ আল-ফারুক বলেন, আমরা রোকেয়া গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য নানাবিদ পদক্ষেপ নিয়েছি, আশা করছি অছিরে বাস্তবায়ন হবে তার প্রতিষ্ঠা কালীন লক্ষ্য উদ্দেশ্য। রোকেয়া অনুরাগী মানুষের দাবি বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রসহ যাবতীয় কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালুকরার।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply