
রংপুর অফিস:
রংপুরের মিঠাপুকুরে সপ্তম ধাপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পায়রাবন্দ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থী আব্দুস ছালাম ভোট পুনগণনার দাবি জানিয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পুনগণনার ব্যবস্থা করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দুইবার নির্বাচিত সাবেক এই ইউপি সদস্য।
দাবি আদায়ে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুরে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ।এর আগে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ করেন পায়রাবন্দের ৮ নম্বর ওয়ার্ডবাসী।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, গত ৭ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগেই সকল প্রার্থীর পক্ষে থাকা পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষর নেন দায়িত্বরত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হাছিবুর রহমান।
পরে বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীকের ইউপি সদস্য প্রার্থী আব্দুস ছালামের ৯৬টি ভোট বাতিল করেন। বাতিল দেখানো ব্যালেটগুলোর মধ্যে ৮২টিতে বৈদ্যুতিকপাখায় সিল ছিল এবং এর বেশির ভাগই কলম দিয়ে ফুটো করা ছিল। পরে কৌশলে তৃতীয় অবস্থানে থাকা মোরগ প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হাছিবুর রহমান নিজে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে দাবি করেন পরাজিত প্রার্থী আব্দুস ছালাম।
সাবেক ইউপি সদস্য বলেন, কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও মিঠাপুকুর মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক হাছিবুর বহমান আমার অপর প্রতিদ্বন্ধী বাদশা মিয়ার (মোরগ প্রতীক) প্ররোচণায় ভােটগণনা প্রক্রিয়ায় কৌশলে বাহিরাগত দুইজন লোককে সংযুক্ত করনে। বিষয়টি নিয়ে সকল প্রার্থী ও ভোটাররা প্রতিবাদ করলেও প্রিজাইডিং কর্মকর্তা কারো কথা শোনেননি। এক পর্যায়ে ভোটগণনা কক্ষ থেকে আমার পোলিং এজেন্ট নুরুল ইসলামকে বের করে দিয়ে নামাজের বিরতি দিয়ে ভোটগণনা বন্ধ রাখেন। ওই পর্যন্ত আমার বৈদ্যুতিকপাখা প্রতীকে গণনা অনুযায়ী প্রাপ্তভোট ছিলো ৮০২টি। পরে আবার আমার পোলিং এজেন্টসহ অন্যান্যদের ভেতরে নিয়ে ভোটগণনার নামে প্রহসন করেন। নামাজের বিরতির আগে গণনায় যেখানে ৮০২ ভোট ছিল, পরে তা কিভাবে ৬০২ হলো?
তিনি অভিযোগ করে বলেন, মোরগ প্রতিকের প্রার্থী বাদশা মিয়াকে ৬১৮ ভােট দেখিয়ে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। সেখানে বৈদ্যুাতিক পাখা প্রতীকে ভোট দেখানো হয়েছে ৬০২টি। ভোট কারচুপির মাধ্যমে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। আমি পরের দিন ৮ ফেব্রুয়ারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটানিং কর্মকর্তা বরাবর ভোট পুনগণনার আবেদন করেছিলাম। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এখনো নির্বাচন কর্মকর্তা কোনো সিদ্ধান্ত না জানিয়েছে উল্টোপাল্টা কথাবার্তা বলে আমাকে হতাশ করেছেন। মিঠাপুকুরে নিবার্চন কর্মকর্তারা ভোট নিয়ে কারচুপি-দুর্নীতি করলেও এর দায় সরকারকে বহন করতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে রংপুরের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, আমরা ওই প্রার্থীর আবেদন পেয়েছি। কিন্তু ভোট পুনগণনার সিদ্ধান্ত আমরা দিতে পারি না। এটা আমাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। অভিযোগকারীকে নির্বাচন কমিশনের ট্রাইব্যুনালে গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
উল্লেখ্য, মিঠাপুকুর উপজেলার বালারহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে এক প্রার্থীকে জয়ী করতে গোপন চুক্তির মাধ্যমে সাড়ে ৪ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নানকে বরখাস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন।গত ২০ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন কমিশনের এক আদেশে তাকে বরখাস্ত করা হয়।
এম২৪নিউজ/আখতার