বালারহাট ইউপি: সংবাদ প্রকাশের পর ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা পরিবর্তনের চেস্টা!

স্টাফ রিপোর্টার |

সংবাদ প্রকাশের পর মিঠাপুকুরের বালারহাট ইউনিয়নে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা পরিবর্তনের চেস্টা করছেন প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা। তারা নতুন করে তালিকা প্রনোয়ন ও মাস্টাররোল তৈরী করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ে জমাদানের চেস্টা করছে। এরফলে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চাল আত্মসাতের ঘটনাটি ধামাচাপা পড়তে পারে বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা।

তারা বলছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রশাসন মিলে বিষয়টি পাশ কাটিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। এ কারণে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয়রা। চাল না পেয়ে একের পর এক অভিযোগ করছেন তালিকায় নাম থাকা উপকারভোগীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বালারহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত রতন পবিত্র হজ¦ব্রত পালন করতে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গোলজার হোসেন। ওই ইউনিয়নে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২৯৮ জনকে ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয় উপজেলা প্রশাসন। এরই সুযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান তার স্বজন ও স্বচ্ছল ব্যক্তিদের নামের তালিকা প্রনোয়ন করে প্রায় ৬ টন চাল আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদের মধ্যে প্যানেল চেয়ারম্যান গোলজার হোসেনের আপন ছোট ভাই মালেয়শিয়া প্রবাসী নয়ন মিয়া, তার পিতা ছামছুল মিয়া, মামা আব্দুল সালাম ও নিকট আত্বীয়-স্বজনদের নাম তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করেছেন। এছাড়াও ছুটিতে থাকা চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত রতনের বাবা চাঁন মিয়া, ছোট ভাই মিলন মিয়া, চাচা ইউনুস মিয়া, ভাতিজা রিপন মিয়া, মৃত ব্যক্তি বাদশা মিয়া ও সাবেক পুলিশ সদস্যের ছেলে রানা মিয়ার নাম রয়েছে তালিকায়। চাল উত্তোলনের পর প্যানেল চেয়ারম্যান গুটি কয়েক উপকারভোগীকে চাল দিয়ে অবশিষ্ট বরাদ্দ আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহি অফিসার বরাবরে অভিযোগ দিয়েছেন কয়েকজন উপকারভোগী।

এ ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। তবে, এখনও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ থেকে বাঁচতে প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা নতুন করে তালিকা প্রনোয়ন ও মাস্টাররোল তৈরী করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে দাখিল করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী উপকারভোগীরা।

তালিকায় না থাকা উপকারভোগী মুকুল মিয়া বলেন, ঝড়ে আমার বাড়িটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তালিকায় আমার নামও ছিল কিন্তু চাল পাইনি। বিষয়টি জানাজানি হলে প্যানেল চেয়ারম্যান নতুন করে মাস্টাররোল তৈরী করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ে জমা করেছেন বলে শুনেছি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বালারহাট ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন ইউপি সদস্য বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যান অভিযোগ থেকে বাঁচতে নতুন করে তালিকা প্রনোয়ন ও মাস্টাররোল তৈরী করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ে জমা করেছেন। এরফলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন না হওয়ার সম্ভাবনা করেছে।

প্যানেল চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন বলেন, তালিকায় অনেক গড়মিল ছিল। তাই নতুন করে তালিকা প্রস্তুত করে জমা করেছি। চাল বিতরণের ১৩ দিন পরে কেন নতুন করে তালিকা ও মাস্টাররোল প্রস্তুত করছেন?- প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান সরকার বলেন, বিতরণের তালিকায় নাম ভূল ছিল। তাই নতুন করে তালিকা গ্রহণ করা হয়েছে।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply