
নিউজ ডেস্ক:
গাইবান্ধায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারিভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য মাইকিং চলছে। ঘরের বাইরে না বেরুতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, ডিবি পুলিশ, র্যাবসহ স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা শহর-গ্রামে টহল দিচ্ছেন। ফলে শনিবার জেলা শহর ও ৬ উপজেলা সদরসহ জেলার হাটবাজারগুলো বিকাল থেকে জনশূন্য হয়ে পড়ে। এছাড়া সারাদিনও জনসমাগম ছিল অন্য দিনের চেয়ে কিছুটা কম।
শুক্রবার ঢাকা-রংপুর জাতীয় মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফাঁসিতলা এলাকায় মহাসড়কের দুই ধারে বসছে কলারহাট। এরমধ্যে উপজেলা শহরের বকচর এলাকায় এক কিলোমিটার, ফাঁসিতলা বাজার থেকে মোঘলটুলি এলাকা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার অংশে এই কলা বেচাকেনা হয়। সপ্তাহের প্রতি সোমবার ও শুক্রবার বসে এই কলারহাট।
শুক্রবার ফাঁসিতলা গিয়ে দেখা যায়, কলার হাটে শত শত মানুষের উপস্থিতি। কৃষক ও ফড়িয়ারা কলার কাদি নিয়ে মহাসড়কের পাশে গাদাগাদি দাঁড়িয়ে আছেন। আর ঢাকা থেকে আসা পাইকাররা কলার দাম হাঁকছেন। অর্থাৎ ক্রেতা-বিক্রেতারা করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে কোন সামাজিক দূরত্ব না মেনে কলা বেচাকেনা করছেন।
কলারহাটে আসা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফাঁসিতলা এলাকার স্কুলশিক্ষক শামীম রেজা বলেন, ঢাকা, নারায়নগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এখানে এসে প্রতিহাটে কমপক্ষে ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক কলা ক্রয় করে নিয়ে যান। এ কারণে এখানে সহস্ররাধিক লোকের সমাগম ঘটেছে। কিন্তু কারো মুখে মাস্ক নেই। কার মধ্যে করোনা ভাইরাস আছে কে জানে। সবাই ঝুঁকি নিয়ে কলা বেচাকেনা করছেন।
কলা বিক্রি করতে আসা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের কৃষক জয়নাল মিয়া জানান, হাটে আসা এবং লোক সমাগমে যাওয়া নিষেধ জানি। কিন্তু কি করবো। বাগানে কলা পেকে নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ ছাড়া টাকারও প্রয়োজন। তাই শত বিপদের মাঝেও হাটে আসতে হয়েছে।
নারায়নগঞ্জ থেকে আসা পাইকার কফিল উদ্দিন বললেন, এসময় বাড়ি থেকে বের হওয়া উচিত নয়, জানি। কিন্তু উপায় নেই। কলার ব্যবসা করে আমাদের রুটিরুজি হয়। তাই মাস্ক পড়ে কলা কিনতে এসেছি। তিনি আরও বলেন, আমি মাস্ক পড়লে কি হবে, কলারহাটে আসা শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষের মুখে মাস্ক দেখলাম না।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ বর্মণ জানান, আমরা বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছি, জনগণকে বাড়ির বাইরে না আসার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। এরপরও কাঁচাবাজারের দোকানে লোকজন কেনাকাটার জন্য আসছেন। এনিয়ে আগামীতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সূত্র: ইত্তেফাক অনলাইন।