
নিউজ ডেস্ক:
মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ইউপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেন জেনে আটক মাদক ব্যবসায়ীকে হাজত থেকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর থানার ওসি আরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি এ ঘটনা ঘটলেও ধামা-চাপা দেওয়ার চেষ্টার কারণে তা প্রকাশ পায়নি। কিন্তু শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় কয়েকটি অনলাইন পত্রিকায় বিষয়টি প্রকাশ হলে এ নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনার ঝড় শুরু হয় জেলাজুড়ে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্ত চলছে। তদন্ত চলাচালীন মিডিয়ায় মন্তব্য করা নিয়েও বিধিনিষেধ রয়েছে।
শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় হরিপুর থানার এসআই আবু ঈসা মুঠোফোনে সময় নিউজকে বলেন, গত ৭ ফেব্রুয়ারি সঙ্গীয় ফোর্স সহ অভিযান চালিয়ে ১শ’ বোতল ফেনসিডিল সহ হরিপুর উপজেলার গেদুড়া কিসমত গ্রামের নূহু মোহাম্মদের ছেলে মহসিন আলীকে (৩২) আটক করি। এরপরে ওসি স্যারের উপস্থিতিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একই উপজেলার গেরুয়াডাঙ্গী গ্রামের উসমান গণির ছেলে আব্দুর রহিমসহ আরও ৫ জন এই মাদক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে স্বীকার করে। যাহার ভিডিও রেকর্ড আমার কাছে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদের পর ওসি স্যারের নির্দেশে সঙ্গীয় ফোর্সসহ ওইদিনই রাতে উপজেলার ঠাকিঠুকি বাজার থেকে আব্দুর রহিমকে আটক করে হাজতে রাখি। মামলার কাগজপত্র ও আনুসঙ্গিক কাজ শেষ করে পরদিন সকালে আসামিদের আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় দেখি হাজতে রহিম নামের আসামি নেই।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে ওসি স্যারকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি আমাকে বলেন, রহিমের পরিবারের লোকজন এসে কান্নাকাটি করছিল, সে আগামীতে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিবে, তাই মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিছি।’ তুমি বাকি ৫ জনের নামে মামলা দিয়ে আসামি মহসিনকে আদালতে নিয়ে যাও।
শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় হরিপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নাজমুল হকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সময় নিউজকে বলেন, ঘটনার দিন আমি সাক্ষ্য দিতে আদালতে ছিলাম। তাছাড়া ওসি স্যার ৫ দিনের ছুটিতে আছেন। তিনি ছুটি থেকে না আসা পর্যন্ত আমি কিছু বলতে পারবো না। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ফেনসিডিলসহ আটক করা হয় বলে স্বীকার করেন।
হরিপুর থানার ওসি এস এম আরঙ্গজেব জানান, আব্দুর রহিমের পরিবারের লোকজনের কাছে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তীতে এই ধরণের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সূত্র: সময় নিউজ