ধুমধামে ব্যাঙের বিয়ে

অনলাইন ডেস্ক:

ব্যাঙের বিয়ে! তাও আবার মহাধুমধামে। বিয়ের জন্য ছায়ামণ্ডপ, পুষ্পমাল্য, গায়ে হলুদ, আশীর্বাদের ধান-দূর্বা, অতিথি আপ্যায়নসহ সব ধরনের ব্যবস্থাই ছিল। শুধু তাই নয়, বিয়েতে আমন্ত্রিতরা ব্যাঙ দম্পতিকে দিয়েছেন টাকাসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী। আমন্ত্রিত প্রায় ৫শ’ অতিথি নেচে গেয়ে ব্যাঙের বিয়ে দেন। তবে বিয়ে পড়ান পুরোহিত।

এমনই এক বিয়ে হয়েছে দিনাজপুরের রাজবাড়ি চত্বরে হিরাবাগান রক্ষাকালী মন্দিরে। প্রচণ্ড খরা থেকে বাঁচতে বৃষ্টির আশায় এ আয়োজন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। শতবর্ষ আগে থেকেই এমন রীতি পালন করছেন তারা।

হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ রামায়ণে বর্ণিত বৃষ্টির দেবতাকে খুশি করার জন্য সেই সময়ে ব্যাঙের বিয়ের প্রচলন ছিল। ত্রেতা যুগের সেই ধারা অনুসারে ব্যাঙের বিয়ের আয়োজন করে থাকেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। তাদের বিশ্বাস, ব্যাঙের বিয়ে দিলে বৃষ্টির দেবতা খুশি হয়ে বৃষ্টি দেন।

রোববার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত এ বিয়ের অনুষ্ঠান চলে। সবার মনের বিশ্বাস ব্যাঙের বিয়ে দিলেই অনাবৃষ্টি কেটে যাবে। বিয়েতে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিয়ম-কানুন পালন করা হয়।

আয়োজকরা জানান, বর্ষাকাল প্রায় শেষের দিকে, কিন্তু বৃষ্টি নেই। জমিতে পানি নেই। আমন চারা রোপণ করা যাচ্ছে না। আবার যে জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে, সে জমিগুলো পানির অভাবে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। অনেকে শ্যালো মেশিন দিয়ে ক্ষেতে পানি দিচ্ছেন। এ কারণে যেন বৃষ্টি আসে সেজন্য ব্যাঙের বিয়ের আয়োজন করা হয়।

বৃষ্টির আশায় সাতদিন আগে থেকে ব্যাঙের বিয়ের আয়োজন চলছিল। রাজবাড়িতে থাকা বিভিন্ন পরিবারের শিশুরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নেচে-গেয়ে টাকা, চাল, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, তেল ইত্যাদি সংগ্রহ করে। এ সময় প্রতিটি বাড়িতে ব্যাঙের বিয়ে খেতে আসার দাওয়াত দেওয়া হয়।

রোববার সন্ধ্যা থেকে ব্যাঙের বিয়ে শুরু হয়। কলাগাছ ও ফুল দিয়ে সাজানো মাড়োয়ায় প্রথম সন্ধ্যা থেকেই মানুষ আসতে শুরু করে। বাজানো হয় মাইক। রঙ মেখে, কাদা মেখে শুরু হয় নাচ-গান।

নারী-পুরুষরা মিলে দুটি ব্যাঙের গায়ে হলুদের আয়োজন করেন। গায়ে হলুদ শেষ হলে শুরু হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। ব্যাঙ দুটিকে নতুন জামা পরিয়ে, তেল-সিঁদুর মাখিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে নেয়া হয়।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে বরের মা সুলেখা সরকার বরকে নিয়ে ও কনের মা চন্দনা সরকার কনেকে নিয়ে হাজির হন মাড়োয়ায়। এ সময় পাশেই চলছিল রান্না-বান্নার কাজ। শুরু হয় নাচ-গান। বর-কনেকে দেখে টাকাসহ বিভিন্ন ধরনের উপহার দিয়ে খিচুড়ি খেয়ে যান আমন্ত্রিত অতিথিরা।

১০১ টাকা প্রতীকী পণে ব্যাঙ বর-কনের বিয়ে পড়ান রাজবাড়ি চত্বরে হিরাবাগান রক্ষাকালী মন্দিরের পুরোহিত তপন কুমার গোস্বামী। তিনি বলেন, অনাবৃষ্টি ও খরা থেকে বাঁচতে প্রথমে শিশুরা এ ব্যাঙের বিয়ের উদ্যোগ নিলেও পরে উৎসবে রূপ নেয়। বড়রাও যোগ দেন। আমাদের বিশ্বাস ব্যাঙের বিয়ের মধ্য দিয়ে অনাবৃষ্টি ও খরা কেটে যাবে। বিশ্ববাসীর মুক্তি মিলবে মহামারি করোনা থেকে।

৮৩ বছর বয়সী তেনিয়া বর্মণ জানান, তিনি ছোটবেলা থেকেই এ ধরনের অনুষ্ঠানের সঙ্গে পরিচিত। যখনই খরা দেখা দিতো তখনই এ ধরনের আয়োজন হতো।

তিনি আরো জানান, আগে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙের বিয়ে দেখা গেলেও এখন খুব একটা চোখে পড়ে না। আগে ব্যাঙের বিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি হতো। বৃষ্টির আশাতেই তাদের এ আয়োজন। সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply