
নিউজ ডেস্ক:
নীলফামারীর জলঢাকায় রান্না ঘরের চুলার আগুনে সর্বস্ব পুড়ে নিঃস্ব হয়েছে ১৯ পরিবার। বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বেরুবন্দ গ্রামের দিঘলটারী চেয়ারম্যানপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। এ সময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে একটি গরুর বাছুর, অর্ধশত কবুতর ও দেড় শতাধিক হাঁস-মুরগি মারা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গ্রামের নারায়ণ চন্দ্র রায়ের বাড়ির রান্না ঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে নারায়ণসহ ওই গ্রামের ১৯ পরিবারের টিন শেড ঘর-বাড়ি, আসবাবপত্র, ধান-চাল, পেঁয়াজ, আলু, নগদ টাকা পুড়ে যায়। এ ছাড়া আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যায় একটি গরুর বাছুর, অর্ধশত কবুতর, দেড় শতাধিক হাঁস-মুরগী।
খবর পেয়ে জলঢাকা, নীলফামারী ফায়ার সার্ভিস এণ্ড সিভিল ডিফেন্সের তিনটি ইউনিট এসে আড়াই ঘন্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স নীলফামারী স্টেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, রান্নাঘরের চুলার আগুন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে আগুন দ্রুত চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে নীলফামারী ও জলঢাকা ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ১৯ পরিবারের ৩০ থেকে ৩২টি ঘরসহ আসবাবপত্র পুড়ে যাওয়ার তালিকা পেয়েছি। তবে ঘরের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। ক্ষয়ক্ষতির নির্ণয়ের কাজ চলছে।
শিমুলবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হামিদুল হক বলেন, আগুনে ১৯ পরিবারের অনন্ত ৬০টি ঘরসহ আসবাবপত্র, ধান-চাল, পেঁয়াজ, আলু, নগদ টাকাসহ সর্বস্ব এবং এবং ৭টি পরিবারের আংশিক ঘরবাড়ি পুড়ে যায়। এছাড়া আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যায় একটি গরুর বাছুর, অর্ধশত কবুতর, দেড় শতাধিক হাঁস-মুরগী। আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় ১৯ পরিবার কিছুই রক্ষা করতে পারেনি। এতে অনন্ত ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
তিনি আরো জানান, সর্বস্ব হারানো ১৯ পরিবারকে রাতে গ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। তাৎক্ষনিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এসব পরিবারের মাঝে রাত, সকাল ও দুপুরের খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রত্যেক পরিবারকে এক বাণ্ডিল করে ঢেউটীন এবং ঘরের খুঁঠির জন্য বাঁশ প্রদান করেছি।
এছাড়াও খবর পেয়ে রাতেই জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে শীতের গরম কাপড়, কম্বল এবং শুকনো খাবার বিতরণ করেন।
অপর দিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন ও জেলা পরিষদ সদস্য আলী হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রত্যেক পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল, ৩ কেজি আলু, ১ কেজি করে ডাল, লবন, চিনিসহ খাদ্য সামগ্রি সহায়তা প্রদান করেন তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।
জলঢাকা উপজেলা অফিসার মাহবুব হাসান জানান, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিবার গুলোর মাঝে জামাকাপড়, কম্বল এবং শুকনা খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে থেকে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা প্রনয়নের কাজ শুরু হয়েছে তালিকা প্রনয়ন শেষ হলে তাদের মাঝে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে। সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ
এম২৪নিউজ/আখতার