আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো রংপুর জেলা ইজতেমা

নিউজ ডেস্ক:

আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শনিবার দুপুরে রংপুর নগরীর আরডিসিসিএস মাঠ শেষ হয়েছে রংপুর জেলা ইজতেমা। মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। 

নির্যাতিত-নিপীড়িত ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা কামনা করে মোনাজাতে অংশ নেন দেড় লাখ মুসল্লি। দুপুর ১২টায় মোনাজাত শুরু হয়ে শেষ হয় ১২টা ৩০ মিনিটে। মোনাজাত পরিচালনা করেন কাকরাইল আহলে শুরার সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ মোশারফ হোসেন।

এর আগে ফজরের নামাজের পর আম বয়ান শুরু হয়। আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে রাত থেকেই রংপুর জেলাসহ আশপাশের জেলার বিভিন্ন এলাকার তাবলিগ জামাতের অনুসারীরা ইজতেমাস্থলে পৌঁছান। ভোর থেকে রংপুরের বিভিন্ন এলাকার লোকজন দলে দলে ইজতেমা ময়দানে আসেন। পিকআপ ভ্যান, থ্রি-হুইলার অটোরিকশা, কার-মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলে যে যেভাবে পারেন ছোটেন ইজতেমাস্থলের দিকে। 

বেলা ১১টার মধ্যে অরডিসিসিএস মাঠ ছাড়াও আশপাশের তিনটি মাঠে অবস্থান করেন আগতরা। ইজতেমা মাঠের মূল মঞ্চ থেকে আশপাশের সব জায়গা মুসল্লিদের আগমনে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। রংপুর নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডসহ জেলার আট উপজেলার তাবলিগ জামাতের অনুসারীসহ বিভিন্ন এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষ এতে অংশ নেন।

মোনাজাতের সময় অনেককে মাঠের আশপাশের রাস্তা, অলি-গলি, বিভিন্ন বাসা-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ভবনের ছাদে অবস্থান করতে দেখা গেছে। আখেরি মোনাজাতে মুসল্লিদের আসা-যাওয়া নিরাপদ করতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

ইজতেমা আয়োজক কমিটির সদস্য আব্দুল খালেক জানান, গত বৃহস্পতিবার বাদ ফজর বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইজতেমার কার্যক্রম। কোরআন ও হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে আল্লাহ ও নবী- রাসুলের হুকুম-আহকাম মেনে চলার মধ্যেই ইহকাল ও পরকালে সুখ-শান্তি রয়েছে এমন আলোচনা করা হয়।

তিনি জানান, ইজতেমায় মরক্কো, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ চারটি দেশের তাবলিগের জামাতের বিদেশি মেহমান ও মুরব্বিরা অংশ নেন। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে শুক্রবারের জুমার মতো শনিবার ফজরের নামাজও আদায় করা হয়। পরে বেলা বারোটার দিকে আখেরি মোনাজাত শুরু হয়। প্রায় ত্রিশ মিনিটের দোয়া মোনাজাতে লাখো মুসল্লির আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছিল ইজতেমা ময়দান। কান্নায় আকুতিতে আল্লাহর কাছে সবাই নিজের, পরিবারের, সমাজের ও দেশসহ মুসলিম বিশ্বের মঙ্গল, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন জানান, ইজতেমার নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে ইজতেমা আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছিল। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, বিশৃঙ্খলা এড়াতে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ছিলেন। এছাড়া পুলিশের কন্ট্রোল রুম ছিল। সবার সহযোগিতায় সুন্দর, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ইজতেমা শেষ হয়েছে। সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply