
রংপুর অফিস:
রংপুর বিভাগের সকল প্রকার চিকিৎসার এমাত্র আশ্রয় স্থল রংপুর মেডিকেল কলেজের এক যুগ ধরে জোড়াতালি দিয়ে চলছে ডেন্টাল ইউনিটের চিকিৎসাসেবা। যন্ত্রপাতি ও জনবল সংকটে চিকিৎসা সেবা হচ্ছে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টর। ডেন্টাল ইউনিটে অচল শীততাপ-যন্ত্রের কারণে রোগীদের সব ধরনের অপারেশনও বন্ধ রয়েছে। মাত্র পাঁচটি ডেন্টাল বেড দিয়ে ৫০ আসনের এই ইউনিটে চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে।
বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি সহ জনবল বরাদ্দ দেয়া হলে এই ইউনিট থেকে বিশ্বমানের সেবা দেয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।রোগ নির্ণয়ের জন্য উচ্চ মূল্যের ডেন্টাল সিটি স্ক্যান ও ওপিজি এক্সরে মেশিনটি দুটি অযত্ন ও অবহেলায় পরে আছে ২০১৩ সাল থেকে।
ডেন্টাল ইউনিটে ইউনিটের সহকারী রেজিস্টার ডাঃ আরিফুল মওলা সোহেল জানিয়েছেন, ২০১২ সালে হাসপাতালের নতুন ৬ তলা ভবনে ৫০আসনের ডেন্টাল ইউনিটে বিডিএস কোর্স চালু হয়। ইউনিটের বহির্বিভাগে দৈনিক শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু পর্যাপ্ত ডেন্টাল চেয়ার ও রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা না থাকায় প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা আর সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যে পাঁচটি ডেন্টাল বেড রয়েছে। তার মধ্যে দু’ টিরই ফ্লাস লাইট নষ্ট। টর্চলাইট জ্বালিয়ে বহির্বিভাগে চিকিৎসা চালিয়ে নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর রোগীদের মতই সিরিয়াল নিয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন রংপুর মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। কয়েক বছর ধরে নষ্ট হয়ে পরে আছে এই বিভাগের দুইটি এসি। দুর্বল ফ্যান চালিয়ে গরমের মধ্যে এ নিয়ে হাসপাতাল চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে।পরিচালকের কাছে কয়েক দফা চিঠি চালাচালি করেও কোন সুফল মেলেনি।
চিকিৎসা নিতে আসা রংপুরের বদরগঞ্জের সেফালী বেগম (৪৫), তারাগঞ্জের রহমত আলী (৬০), সদর উপজেলার আকবার আলী (৬৫)সহ অনেকেরেই অভিযোগ, দাঁত থাকতেও তারা দাঁদের মর্যাদা বোঝেননি। অবহেলার কারণে তাদেও খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ। অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে আসলেও সঠিক চিকিৎসা সেবা থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছেন।চিকিৎসকরা তাদের সঠিকভাবে দেখলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন ডায়াগোনেস্টিক সেন্টারে। উপায় অন্ত না থাকায় তাদের অনেকেই বাড়ি ফিরে গেছেন। যারা পরীক্ষা করতে পেরেছেন তাও ধারদেনা করে। কেননা মুখ ও দন্ত চিকিৎসা অনেকটাই ব্যয়বহুল।এই ব্যয় মেটানোর এই অঞ্চলের বেশির ভাগ নিম্ন আয়ের মানুষের সাধ্য নেই। ইউনিটে রোগ নির্ণয়র ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসকরা বাধ্য হয়ে রোগীদের স্থানীয় ডায়াগোনেস্টিক সেন্টারগুলােতে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।
ডেন্টাল ইউনিট প্রধান ডা. মো. রাশেক রায়হান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ইউনিট চালুর পরে রোগ নির্ণয়ের জন্য উচ্চ মূল্যের ডেন্টাল সিটি স্ক্যান ও ওপিজি এক্সরে মেশিনটি দুটি অযত্ন ও অবহেলায় পরে আছে ২০১৩ সাল থেকে। দীর্ঘ দিন ধরে ইউনিটে রেডিও গ্রাফারের পদ শূন্য থাকায় মেশিন দু’টি চালু করা সম্ভব হয়নি। সরবরাহকৃত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এখনও হস্তান্তর করেনি ডেন্টাল ইউনিটে। ইউনিটটি চালুর পর চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৮৮টি পদ সৃষ্টি হয়। কিন্তু চলতি বছরের ১৫ জুন পর্যন্ত মাত্র ৭টি পদে চিকিৎসকের পদায়ন হয়েছে। শূন্য রয়েছে টেকনােলজিস্টসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ। ৫০ আসনের ডেন্টাল ইউনিটে চালু আছে বিডিএস কোর্স। লিফট বিহীন ৬ তলা ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
২০২০ সালের মার্চে শুধু মাত্র জনবল সংকটের কারণে পুরো বিভাগ চালু করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। আন্তঃবিভাগে ১২টি বেড স্থাপন করা হলেও সেগুলােরও অবস্থা জীর্ণ দশা।গভীর নলকূপের পানি আয়রনে ভরে উঠেছে ব্যবহারের অনুপযোগী।স্থাপন করা হয়েছে অপারেশন থিয়েটার যা মুখ ও দন্তের ক্যান্সার, টিউমার, ভাঙা চোয়াল, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মানুষদের মুখের জটিল অপারেশন হয়ে থাকে এখানে। গত দু’ বছর আগে ডেন্টাল ইউনিটের তত্ত্ববধানে প্রতি মাসে গড়ে শতাধিক রোগীর অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। এখন এসি না থাকার কারণে এখন সব অপারেশন বন্ধ।
ইউনিটের ম্যাক্সছিলো ফেসিয়াল সার্জারী বিভাগের ইনচার্জ সাহানা আখতার লাভলী জানিয়েছেন, এসি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তীব্র গরমের কারণে এরারটাইড এই অপারেশন থিয়েটারে এক মিনিটের বেশি সময় থাকা যায়না। এছাড়া করােনা- কালীন সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে অপারেশন বন্ধ থাকায় অপারেশন থিয়েটারের অনেক যন্ত্রাংশ নষ্ট হতে বসেছে।
রংপুরমেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোঃ রেজাউল করিম জানিয়েছেন, ইউনিটের গুরুত্বের কথা ভেবে সব সমস্যার সমাধান করা হবে। উদ্যোগের বিপরীতে পর্যাপ্ত অর্থেরও প্রয়োজন। আগামী অর্থ বছরের বাজেটে ডেন্টাল ইউনিটের গতি ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের প্রচেষ্টা করাহবে।
এম২৪নিউজ/আখতার