রংপুরের রিজিয়ার দু’পুত্র গ্রেনেড হামলার বিচার দেখার প্রহর গুনছে

২১ আগস্ট ট্র্যাজেডি ।। 

স্টাফ রিপোর্টার (রংপুর):

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত হন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার রিজিয়া। তার পুত্র জন্মগত প্রতিবন্ধী মো. নুরুন ন্নবী জানান, প্রধানমন্ত্রী ছাড়া সরকারের কোন অফিস আমাদের খবর নেয় না। খবর রাখে শুধু সাংবাদিকরা ও ওয়ার্ড মেম্বার পলাশ। এখনো মা হত্যার বিচারের আশায় পথ চেয়ে আছে দু’ সন্তান। হারুন অর রশিদ (৩৮) ও ছোট ভাই প্রতিবন্ধী নুরুন নবী (৩৩)। প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তায় এখন গাভী খামারী। এখন তার খামারে তিন টি দুধ দেয়া গরুসহ ৭টি গাভী। আগে তারা দুই ভাই অন্যের জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করত বলে নুরুন নবীর স্ত্রী মর্জিনা বেগম ইত্তেফাকে জানান। প্রতিবন্ধী মো. নুরুন ন্নবী আরো জানান, সরকারের উপজেলা প্রশাসন বা জেলা প্রশাসন আমাদের খোঁজ না রাখলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের খোঁজ নেন।

এদিকে ষোল বছর গ্রেনেড হামলায় নিহত রিজিয়া বেগমের বিচার না হওয়ায় নিহত রিজিয়ার দুই সন্তানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত বিচার দাবি করেন। বড় ছেলে হারুন অর রশিদ বলেন, ৩৮ বছর পরে হলেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিচার হয়েছে। আমার বিশ্বাস আমার মায়ের হত্যারও বিচার আমরা পাবো। আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলায় এই পরিবারের সকলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞ। এখন শুধুই বিচার চান তারা।

এ সরকারের আমলেই বিচারের দাবী জানিয়ে তারা বলেন, বিচার হলেই মায়ের আত্মার শান্তি পাবেন।

রিজিয়ার বড় বোন আনোয়ারা বেগম বলেন, বাড়িত বসে শাড়ির আচল দিয়ে বারবার বোনের ছবি মুছি। আমরা এখন বিচার চাই। ২০০৪ সালের ১৭ আগস্ট সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলার প্রতিবাদে ২১আগষ্ট দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে মহানগর আওয়ামী লীগের সমাবেশ ছিল। সমাবেশ শেষে সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি মিছিল হওয়ার কথা ছিল। এ শান্তি মিছিলে নেতৃত্ব দেয়ার কথা ছিল আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার। মিছিল শুরুর আগ মুহূর্তে ট্রাকের ওপর নির্মিত খোলা মঞ্চে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়া মাত্র বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে তাকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা শুরু হয়। বিকট শব্দে একের পর এক বিস্ফোরিত হয় ১৩টি গ্রেনেড। মৃত্যুর জাল ছিন্ন করে প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার পর শেখ হাসিনার গাড়িকে লক্ষ্য করে ১২টি গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। নারকীয় ওই হামলায় রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার রিজিয়া বেগমসহ ২২জন প্রাণ হারান। আহত হন কয়েকশত নেতা কর্মী। কাউনিয়া উপজেলার গঙ্গানারায়ণ গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিনের মেয়ে রিজিয়া বেগম ১৯৯০ সালে কাজের সন্ধানে ঢাকা পাড়ি জমান। ঢাকার বাড্ডা এলাকায় ইন্ডিয়ান ভিসা অফিসে ছবি লাগানোর কাজ করতেন তিনি। এই চাকুরী করে চলছিল তাদের পারিবারিক জীবন জীবিকা। গ্রেনেড হামলা হওয়ার পরই ঐ বছর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের জন্য দেয়া হয় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর পর ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ৮ লাখ টাকা দেয়া হয়। এরপর ২০১৯ সালে ২৪ লক্ষ টাকা দেয়া হয়। এখন তদের কোন অভাব নেই। তাদের চাওয়া শুধুই মায়ের বিচার। ৫ নং বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী বলেন, আগে কি হয়েছে জানি না। আমার আমলে রেজিয়ার পরিবার যাতে করে সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা পায় আমি সেই চেষ্টা করে যাবো।

সম্প্রতি রিজিয়া বেগমের বাড়ীতে গিয়ে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর অনুদান পাওয়ার পর আর্থিক সচ্ছলতা এলেও তাদের পিতা অনেকটা বিনা চিকিৎসায় ১০২ বছর বয়সে মারা যান। মেয়ে হত্যার বিচার দেখে যেতে পারেননি তিনি।

পরিবারটির বর্তমানে একমাত্র দাবি ২১ আগস্টে হওয়া জঘন্য এই হত্যাকাণ্ডের বিচার।

এম২৪নিউজ/আখতার