
স্টাফ রিপোর্টার:
সরকার খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে জেলের তালা ভেঙ্গে মুক্ত করে বিদেশে চিকিৎসার জন্য নেয়া হবে। আমরা খালেদার মুক্তি চাই না। আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করতে চাই। সারা বাংলার লোকজন খালেদার মুক্তি চায়।
গতকাল বুধবার বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে রংপুর জেলা বিএনপি আয়োজিত রংপুরের গঙ্গাচড়াস্থ বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেছেন, বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মেয়র সাবেক মন্ত্রী মীর্জা আব্বাস।
তিনি আরা বলেন, করোনার দোহাই দিয়ে সমাবেশ বন্ধ রাখছেন। আন্দোলন চলবে থামবে না। খালেদা জিয়ার যদি সামান্যতম ক্ষতি হয় তাহলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তখন আওয়ামী লীগের টিকেটি খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা আর একবার মুক্তিযুদ্ধ করবো। জেলের তালা ভেঙ্গে খালেদাকে মুক্ত করবো। সমাবেশের প্রধান বক্তা বিএনপি স্থায়ী কমিটির যুগ্ম সচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, কালনাগিনীর ছোবলে গণতন্ত্র আজ ধ্বংস হচ্ছে। রংপুর এখনো বিএনপির দখলে। সব মাফিয়ার গড ফাদার শেখ হাসিনা। পৃথিবীর ছোট হয়ে আসছে। আপনার পালাবার পথ থাকবে না। আমরা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্ববাবধায়ক অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই।
ঢাকা সিটির সাবেক এই মেয়র বলেন, ১৯৭১ সালে দেশে একটা মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। সেই মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পেয়েছিলাম স্বাধীন ও স্বার্ভভৌর্ম বাংলাদেশ। বর্তমানে দেশে আরেকটা যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সেই যুদ্ধে নেতৃত্ব দিবেন তারেক রহমান। আমরা তার নেতৃত্বেই এই যুদ্ধে জয়ী হয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো। দেশে মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেবো।তাই সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আব্বান জানাচ্ছি।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও রংপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিব উন নবী খান সোহেল। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সারাদেশের মানুষ আজ জেগেছে। তারা একটি দাবিই করছে সেটা হলো দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সু-চিকিৎসা। কিন্তুু ভোটার বিহীন এই সরকার দেশের মানুষের সেই চাওয়াকে গুরুত্ব না দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মুলক মামলা দেখিয়ে তাকে আটক করে রেখেছে। উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে না। বেগম খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যদি বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হয় তাহলে এই সরকারের টিকিও খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি আরও বলেন, রংপুরে বিএনপি রাজনৈতিক ভাবে অনেক শক্তিশালী। আজকের এই জনসভাই তরা প্রমাণ। পথে পথে নেতাকর্মীর বাঁধা দেয়া হয়েছে। হয়রানী করা হয়েছে। পুলিশ-প্রশাসনের বাঁধা ডিঙিয়ে আজকের এই সমাবেশ জন সমুদ্রে পরিনত হয়েছে।
বিএনপির এ নেতারা বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আজ একতাবদ্ধ হয়েছে। আন্দোলনের যে জোয়ার শুরু হয়েছে। আগামী দিনে তারা সেই ষড়যন্ত্রকারীদের ধ্বংস করে দেবে। বাংলাদেশের মানুষ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।যারা যারা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যারা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য আমাদের সভা সমাবেশে বাধা দিচ্ছে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এই যে উত্তাল আন্দোলন শুরু হয়েছে, কোনো শক্তি একে রুখতে পারবে না। যারা বাংলাদেশের আত্মাকে বিক্রি করে দিয়েছে তাদের মূল্য দিতে হবে আগামী দিনে।
রংপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রইচ আহমেদের সঞ্চলনায়সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পদাক সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ও আব্দুল খালেক, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি চৌধুরী মেহেবুল্লাহ আবু নুর, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পদাক উম্মে হাবিবা, ছাত্রদলের রংপুর বিভাগীয় টিম প্রধান সহ-সভাপতি মামুন খান প্রমুখ।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন রংপুর মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সামসুজ্জামান সামু, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান লাকু, গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াহেদুজ্জামান মাবু, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়ান হোসেন শাহান, জেলা যুবদল সভাপতি নাজমুল আলম নাজু, সাধারণ সম্পাদক সামসুল হক ঝন্টু, মহানগর যুবদল সভাপতি মাহফুজ উন নবী ডন, সাধারণ সম্পাদক লিটন পারভেজ, মহানগর কৃষক দল আহবায়ক শাহ নেওয়াজ লাবু, মহিলা দল মহানগর কমিটির সভাপতি রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, সাধারণ সম্পাদক সাবেক কাউন্সিলর আরজানা বেগম, ওলামা দল কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক ও রংপুর জেলা সভাপতি মাওলানা ইনামুল হক মাজেদী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মমিন জিহাদী, মহানগর ছাত্রদল সভাপতি নুর হাসান সুমন, সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম জিম, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব চৌধুরী, জেলা ছাত্রদল সভাপতি মনিরুজ্জামান হিজবুল, সাধারণ সম্পাদক শরীফ নেওয়াজ জোহা প্রমুখ। সমাবেশে রংপুর জেলা ও মহানগর বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
এম২৪নিউজ/আখতার