
রংপুর অফিস:
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব ও সাবেক সংসদ সদস্য শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যনি বলেছেন, এক দলীয় শাসন ব্যবস্থার অধীনে দিনের ভোট রাতে কিংবা ফ্যাসিবাদী কায়দায় ব্যক্তি প্রয়োজনের ভোট আর কখনো যাতে দেশে না হয়। সেজন্য জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রয়োজন রয়েছে। দেশে আজ গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার নেই।
তিনি বলেন, দেশের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীনি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে এখন ঐকব্যদ্ধ হবার সময় এসেছে। সবার সম্মিলত আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে ঐক্যমতের ভিত্তিতে এখন জাতীয় সরকার এবং দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ অপরিহার্য দাবি করে একই সঙ্গে অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনোত্তর একটি জাতীয় সরকার এবং দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থাও অপরিহার্য বলে দাবী করেছেন।
শনিবার সকাল ১০টায় রংপুর পর্যটন মোটেলের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র মিডিয়া সেলের উদ্যোগে ‘জবাবদিহীতা মূলক রাষ্ট্র গঠনে অবাধ, নিরপেক্ষ, নির্বাচনত্তোর একটি জাতীয় সরকার এবং দ্বিকক্ষ সংসদ অপরিহার্য’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় দলটির অঙ্গসংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বিশিষ্ট নাগরিক ও সচেতন সমাজের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন প্রয়োজন। একারণে তরুণরা রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে আওয়াজ তুলেছে। এখান থেকে আমাদের উপলব্ধি করতে হবে। আজ রাষ্ট্রের এমন কোনো সেক্টর নেই, যেখানে রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি-অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার চর্চা হয়না। রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে অকেজো করে ফেলা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে রাজনীতি, অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, নির্বাচন ব্যবস্থা তথা গোটা রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ২০১৭ সালে ভিশন-২০৩০ তুলে ধরার সময় বলেছিলেন সংখ্যাগরিষ্ট শাসনের বদলে বহুত্ববাদের চর্চা ও সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এটি করতে গেলে এখন প্রয়োজন একটি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। যেই নির্বাচনোত্তর বহুত্ববাদের চর্চা ও সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার জন্য গঠন করা হবে জাতীয় সরকার ও দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থা। বিএনপি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার সেই জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করছে।
বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় আলোচ্য বিষয়ের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী। এতে বলা হয়, বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ, জ্ঞানের সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে দেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, পেশাজীবি, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ ব্যক্তিদের নিয়ে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা এখন সময়ের দাবি।
মতবিনিময় সভায় ব্যরিস্টার মীর হেলালের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ, সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আকতার, সুজন রংপুর জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন, অধ্যাপক জাকির হোসেন, শিক্ষাবিদ ড. ফেরদৌস রহমান, অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন, চিকিৎসক তাজুল ইসলাম, সাংবাদিক একেএম মঈনুল হক, গবেষক ড. রোকনুজ্জামান, অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, সাংবাদিক রেজাউল করিম মানিক। রংপুর বিভাগের আট জেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার বিশিষ্ট নাগরিক।
এম২৪নিউজ/আখতার