পীরগাছায় ডালের নামে কাটা হচ্ছে গাছ

অপরিকল্পিতভাবে পল্লী বিদ্যুতের নতুন লাইন

নিউজ ডেস্ক:

রংপুরের পীরগাছায় অপরিকল্পিতভাবে পল্লী বিদ্যুতের নতুন লাইন টানায় সড়কের সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার পীরগাছা-কান্দি সড়কে কাবিলাপাড়া গুচ্ছগ্রাম এলাকায় প্রথম দিনেই ১৫-২০টি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

নতুন নির্মিত লাইনটি চালু করতে একটি শতবর্ষী বটগাছসহ আরো পাঁচ শতাধিক গাছ কেটে ফেলা হবে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির ভুক্তভোগীরা জানান, প্রায় ১০ বছর আগে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে অংশীদারির ভিত্তিতে পীরগাছা-কান্দি সড়কে বৃক্ষ রোপণ করা হয়। অংশীদার হিসেবে স্থানীয় গরিব ও অসহায় নারীদের নেওয়া হয়। তাঁরা গাছগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করেন।  এ সময় প্রথম তিন বছর তাঁরা অর্থ সহায়তা পান। পরবর্তী সময়ে গাছগুলো বিক্রির সময় ভুক্তভোগীরা ৫৫ শতাংশ অর্থ পাবেন বলে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দেয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার পীরগাছা-কান্দি সড়কে কান্দি থেকে বালার দীঘি পর্যন্ত দুই ধারে সহস্রাধিক বড় বড় গাছ শোভা বর্ধন করছে। এ সড়কের পাশে গড়ে ওঠা কিছু বসতবাড়িতে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে লাইন নির্মাণ করেছে রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর আওতাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সড়কের দুই পাশে শত শত বড় বড় গাছ থাকা সত্ত্বেও সড়ক ঘেঁষে ও মাঝ দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে আগেই খুঁটি বসানো হয়েছে। সম্প্রতি বৈদ্যুতিক তার টানাতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি গাছে লেগে যাচ্ছে। ফলে তারা কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই পাঁচ শতাধিক গাছ কেটে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

মঙ্গলবার সড়কের পাশে বেড়ে ওঠা ১৫-২০টি ইউক্যালিপটাস গাছ গোড়া থেকে প্রায় পাঁচ ফুট ওপরে কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণের ক্ষেত্রে গাছের ডালপালা ছাঁটা ও প্রয়োজনে গাছের আগা কাটার নিয়ম থাকলেও সেই নিয়ম না মেনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গাছের গোড়া থেকে কাটছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, নিয়ম মেনে দরপত্রের মাধ্যমে গাছগুলো কেটে নিলে গাছ বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমার পাশাপাশি সুবিধাভোগীরাও পেতেন। কিন্তু এই গাছগুলো তো এখন হরিলুট হয়ে যাবে।

সুবিধাভোগী ফুলঝুরি বেগম বলেন, ‘সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অংশীদারির ভিত্তিতে গাছগুলো রোপণ করে। গাছগুলো বিক্রির সময় আমরা এখান থেকে লভ্যাংশ পাব। কিন্তু পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ গাছগুলো কেটে সাবাড় করে ফেলছে। ’

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে লাইন নির্মাণ করায় গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে। অথচ পরিকল্পিতভাবে লাইন নির্মাণ করা হলে গাছগুলো বাঁচানো যেত। ’

পীরগাছা বন বিভাগের কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী বলেন, ‘কাটা গাছগুলো বন বিভাগের আওতায় নয়। এগুলো বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দেখাশোনা করে। ’

পীরগাছা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উচ্চতর উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল বাসার শেখ বলেন, ‘সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় গাছগুলো লাগানো হয়েছিল। কিন্তু গাছ কাটার বিষয়ে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। ’

রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ পীরগাছা জোনাল অফিসের ডিজিএম আব্দুল জলিল বলেন, ‘শুধু বন বিভাগের গাছ হলেই আমরা অনুমোদন নিয়ে থাকি। এ ছাড়া সরকারি কোনো গাছ কাটতে আমাদের অনুমোদন লাগে না। পল্লী বিদ্যুতের আইনে নির্মিত লাইনের আশপাশে ১০ ফুটের মধ্যে যত গাছ রয়েছে আমরা কাটতে পারি। ’

পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন প্রধান বলেন, ‘পীরগাছা-কান্দি সড়কে গাছ কাটার বিষয়ে আমাদের জানানো হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

সূত্র: কালের কন্ঠ।

Leave a Reply