
নিউজ ডেস্ক:
রংপুরের আতঙ্ক কিশোর গ্যাং টাইগার গ্রুপ। সে গ্রুপের গ্যাং লিডারসহ সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা আদালতে সব অপকর্মের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।
পুলিশের দাবি, এ গ্রুপের বেশ কিছু অপরাধের তথ্য তাদের হাতে আছে।
শনিবার সকালে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু সুফিয়ান জানান, গত ২৬ অক্টোবর রংপুর-হারাগাছ সড়কের নগরীর সাহেবগঞ্জ এলাকায় এক কলেজছাত্রীকে মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যাবার সময় স্থানীয়রা চারজনকে আটক করে হারাগাছ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এ সময় কলেজছাত্রীকেও উদ্ধার করা হয়।
মামলাটি তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে অর্থের বিনিময়ে মাদক, ছিনতাই , অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছে এ টাইগার বাহিনীর সদস্যরা। তাদের লিডার আশিকুর রহমান চৌধুরিসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ গ্রুপের অন্য সদস্যরা হলেন মাহিন ইসলাম, আসাদুজ্জামান শুভ, শুকুর আলী, আলম হোসেন, মনারুল ইসলাম ও নাসিম মাহমুদ নাহিদ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ বাহিনীর বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দেন।
তিনি বলেন, এ বাহিনীর সদস্যরা ‘ঝাঁকি’নামে এক ধরনের নেশা জাতীয় পানীয় তৈরি করেছে। তারা গোটা হারাগাছ এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছে। এ বাহিনীর সঙ্গে আরো কোনো চক্র জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতাররা রংপুর জেলহাজতে রয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি শহীদুল্লা কাওসার, এসি ফারুক আহম্মেদ ও হারাগাছ থানার ওসি একেএম নাজমুল কাদের।
প্রেস ব্রিফিয়ে আরো বলা হয়, গ্যাং লিডার আশিকুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে হারাগাছের সারাই কসাইটারী, ডাঙ্গারপাড়া, মুন্সিপাড়া, সাহেবগঞ্জ, দালালহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় এ গ্রুপের সদস্যরা বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করতো। মারপিটের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সুবিধা আদায় করতো। তারা ভাড়ার বিনিময়ে মারধর, অপহরণ ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ করে থাকে।
সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ।