
রংপুর অফিস:
ঈদুল ফিতরের দিন শুক্রবার দুপুর থেকে বিকেল গত কাল রোববার পর্যন্ত রংপুর নগরীর নিসবেতগঞ্জ ঘাঘট নদী, রংপুর টাউন হল চত্বর, কাউনিয়ার শতবর্ষী তিস্তা রেলওয়ে সেতু, গঙ্গাচড়া মহিপুর শেখ হাসিনা তিস্তা সড়ক সেতু পয়েন্টজুড়ে ছিল মানুষের ঢল। ঈদের দিন থেকে এসব স্থানে যেতে দীর্ঘ যানজটে পড়েছেন বিনোদনপ্রেমী মানুষের ঢলে ।
রংপুরে করোনা সংক্রমণরোধে সরকারি নির্দেশনা মেনে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে রংপুর বিনোদন উদ্যান ও চিড়িয়াখানা, রংপুর শিশুপার্ক, কালেক্টরেট সুরভি উদ্যান, রংপুর জাদুঘর, তাজহাট জমিদার বাড়ি, সিটি চিকলি পার্ক, ভিন্নজগত, আনন্দনগরসহ রংপুরের ছোট-বড় বিনোদন কেন্দ্রগুলো। এ কারণে উন্মুক্ত দর্শনীয় স্থানগুলো এখন সব বয়সী মানুষের ঈদ উদযাপনের খোরাক জোগাচ্ছে।
তবে দর্শনার্থীদের মাঝে নেই তেমন করোনা সচেতনতা। সেখানে মানা হচ্ছে না শারীরিক দূরত্ব, অধিকাংশেরই মুখে নেই মাস্ক।গত শুক্রবার থেকে গতকাল রোববার বিকেল ৩টার পর থেকে তিস্তা রেলওসড়ক সেতু এলাকায় দর্শনার্থীদের ভিড় জমতে শুরু করে। দূর-দূরান্ত থেকে কেউ আসছে মোটরসাইকেলে, কেউ অটোরিকশায়। দর্শনার্থীদের ভিড়ে সেতু এলাকায় জমে উঠেছে অস্থায়ী দোকানপাট।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শারীরিক দূরত্ব কেউ মানছে না। অধিকাংশের মুখে মাস্কও নেই। গাদাগাদি করে মানুষ আসছে তিস্তাসেতু এলাকায় ঘুরতে। এ সময় এক মোটরসাইকেলে তিনজন উঠে বা শারীরিক দূরত্ব না মেনে অটোরিকশায় উঠে, যে যেভাবে পারছেন, আসছেন-যাচ্ছেন।প্রতি বছরই এই দুই সেতু এলাকায় উৎসবে লোক সমাগম হয়। কিন্তু গত বছর থেকে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি শুরু হওয়ায় লোক সমাগম অনেক কম হয়। তাছাড়া প্রশাসনের বিধিনিষেধও রয়েছে।তবে এ বছর এতো বেশি লোকসমাগম হয়েছে, যা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে উপজেলা প্রশাসনকে।
ঘুরতে আসা কয়েকজন দর্শনার্থীর সঙ্গে কথা হয় তারা বলছেন, দীর্ঘদিন লকডাউন থাকার ফলে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয় না। তাই ঈদ উপলক্ষে এখানে এসেছেন। করোনার স্বাস্থ্যবিধি না মানার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা এড়িয়ে যান।
রংপুরের কাউনিয়া বালাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যন আনছার আলী এ বিষয়ে বলেন, প্রতিবারই এমন ভিড় হয় তিস্তা সেতু। এমন ভিড়ে কাকে নিষেধ করব? তবে সবাই অবশ্যই মাস্ক পরা উচিত।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাসুমুুর রহমান বলেন, ‘সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পুলিশ সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। এতো লোকের সমাগম কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা তাদের চলে যেতে অনুরোধ করে মাইকিং করছি।
রংপুরের সিভিল সার্জন ডাঃহিরম্ব কুমার রায় বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পেতেই সরকারি বিধিনিষেধ মেনে সকল বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। বিনোদন কেন্দ্র গুলো খোলা থাকলে করোনার সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঈদে বিনোদন কেন্দ্র ছাড়াও মানুষ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরতে যাচ্ছে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে এসব জায়গাতেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
এম২৪নিউজ/আখতার