রংপুরে অবসরে যাওয়া শিক্ষককে পরীক্ষার সার্বিক দায়িত্ব প্রদান করা নিয়ে তোলপাড়

রংপুর অফিস:

রংপুরে দুইবছর আগে চাকুরী থেকে অবসর গ্রহন করা একজন শিক্ষককে এইচএসসি পরীক্ষার যাবতীয় দায়িত্ব প্রদান করা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই নিয়োগ দিয়েছে এনটিআরসি কতৃপক্ষ তার পরেও সেই অবসরে যাওয়া শিক্ষক আব্দুলমজিদকে মাউশির নির্দ্দেশনা অমান্য করে ঘটনাটি ঘটেছে রংপুর নগরীর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমাজ কল্যান বিদ্যা বিথি স্কুল এন্ড কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার যাবতীয় দায়িত্ব পালন করছেন। ওই শিক্ষক অবৈধ ভাবে চলমান এইচ এসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র উত্তোলন পরীক্ষার খাতা পরীক্ষার্থীদের মাঝে সরবরাহ সহ পরীক্ষার যাবতীয় কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সমাজ কল্যান বিদ্যা বিথি স্কুল এন্ড কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এখানকার অধ্যাক্ষ মিসেস নাহিদ ইয়ামিনও দেড় বছর পুর্বে অবসরে গেছেন। মাউশির নির্দ্দেশনা অনুযায়ী অবসরে যাবার সঙ্গে সঙ্গে সহকারী অধ্যক্ষ অথবা সিনিয়র শিক্ষকের কাছে দায়িত্বভার হস্তান্তর করার কথা থাকলেও তিনি অবৈধভাবে দেড় বছর ধরে অধ্যাক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন। শুধু তাই নয় তিনি প্রতিমাসে প্রতিষ্ঠান থেকে ৭০ হাজার টাকা বেতন উত্তোলন করছেন। নিজের পছন্দের ব্যাক্তিদের নিয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করিয়ে সরকারী দলের প্রভাব দেখিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সাথে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক আব্দুল মজিদ তারও আগে অবসরে গেলেও তাকে অবৈধ ভাবে কলেজে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ দিয়েছেন। শুধু তাই নয় তাকে অবৈধ ভাবে পরীক্ষা কমিটির সকল দায়িত্ব দিয়ে মোটা অংকের অর্থ উত্তোলন করে ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়্রা অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সচিব ও মাউশির মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিয়োগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক আব্দুল মজিদ অবসরে যাবার পর গনবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন কতৃপক্ষ এনটিআরসি মারজিয়া আখতারকে অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে উনি দায়িত্বরত থাকা অবস্থায় কি করে অবসরে যাওয়া শিক্ষককে সেখানে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সে ব্ষিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রংপুরে জেলা ও মাধ্যমিক মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাধিক কর্মকর্তা। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, যেহেতু অবসরে যাওয়া অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক আব্দুল মজিদের স্থলে একই বিভাগের একজন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে এনটিআরসি সেখানে তাকে আর চাকুরীতে রাখার কোন সুযোগ নেই এবং এটা সম্পুর্ন বেআইনী।

অন্যদিকে সমাজ কল্যান বিদ্যা বিথি স্কুল এন্ড কলেজের বেশ কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেছেন কলেজে অনেক সিনিয়র শিক্ষক থাকার পরেও কি করে দু বছর আগে অবসরে যাওয়া শিক্ষক আব্দুল মজিদকে এইচ এসসি পরীক্ষার সার্বিক দায়িত্ব দেয়া সম্পুর্ন বেআ্ইনী। তারা আরো অভিযোগ করেছেন অবসরে যাওয়া অধ্যাক্ষ নিজেই যেমন বেআইনী ভাবে অধ্যাক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি আবার বেআইনি ভাবে তার আগে অবসরে যাওয়া শিক্ষককে এইচ এসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপুর্ন পরীক্ষার সার্বিক দায়িত্ব বেআইনী ভাবে প্রদান করেছেন।

এ ব্যাপারে অবসরে যাবার পরেও এইচ এসসি পরীক্ষার দায়িত্বপালন কারী শিক্ষক আব্দুল মজিদের সাথে তার মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবসার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তার মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠানোর পর ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। একই ভাবে কলেজের অধ্যাক্ষা মিসেস নাহিদ ইয়াসমিনের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply