
রংপুর অফিস:
রংপুর সিটি করর্পোরেশনের নির্বাচনের তফশীল ঘোষনা করা হয়েছে। আগামী ২৭ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর। নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী কে হবেন এ নিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের বিশেষ জরুরী সভায় একক প্রার্থী ঘোষনার কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি দলের নেতা কর্মীরা। শেষ পর্যন্ত দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষে সকল নেতা কর্মীরা কাজ করবেন বলে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। তবে ৩৩টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও ১১টি সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল।দলের মেয়র সকল মনোনয়ন প্রত্যাশি এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানাগেছে।
মহানগর আওয়ামী লীগের একটি সুত্র জানায়, রংপুর সিটি করর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হাফ ডজন প্রার্থী মেয়র পদে প্রার্থী হবার জন্য এক বছর ধরে নগরীতে ব্যনার ফেষ্টুন, বিলবোর্ড আর তোরন লাগিয়ে প্রচারনা চালিয়ে আসছিলো। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শাফিয়ার রহমান সাধারন সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল দুজনই প্রার্থী হবার বাসনা নিয়ে এতদিন প্রচার প্রচারনা চালিয়ে আসলেও মহানগর আওয়ামী লীগের সভা করে একক প্রার্থী হবার জন্য দলীয় নেতা কর্মীদের কোন মতামত নেয়া হয়নি। তবে মনোনয়ন পত্র দাখিলের ১৫দিন আগে আকস্মিক ভাবে বিশেষ বর্ধিত সভা আহবান করা হয়। এতে সভাপতি সাধারন সম্পাদক ছাড়াও সহ সভাপতি রংপুর মেট্রোপলিটান চেম্বার অব কর্মাসের প্রেসিডেন্ট রেজাউল ইসলাম মিলনও মেয়র পদে প্রার্থী হবার বাসনা প্রকাশ করেন।
এর বাইরে জেলা শ্রমিক লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল মজিদ, সেচ্ছাসেবক লীগের মহানগর সভাপতি আতাউজ্জামান বাবু ও কোতয়ালী থানা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার লতিফুর রহমানও মেয়র পদে প্রার্থী হবার জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রচার প্রচারনা জনসংযোগ সমাবেশ করে আসছেন। বিশেষ করে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শাফিয়ার রহমান ও সাধারন সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল দুজনেই মেয়র প্রার্থী হবার বাসনা নিয়ে প্রচার প্রচারনা সমাবেশে জনসংযোগ করায় দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে মহানগর আওয়ামী লীগ। এমনি অবস্থায় রোববার দুপুর ১২টায় নগরীর বেতপট্টিস্থ দলীয় কার্যালয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা আহবান করা হয়।
সভা সুত্রে জানা গেছে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক তাদের সমর্থকদের নিয়ে সভায় উপস্থিত হলেও দুজনের কেউই মেয়র পদে প্রার্থী হবার বিষয়টি সভায় উপস্থাপন করতে পারেনি। সভায় উপস্থিত মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটি থানা কমিটি ও ওয়ার্ড কমিটির নেতারা তাদের কাউকেই তাদের মেয়র হবার বাসনার কথা বলতে দেয়নি। সকলের একটাই মতামত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকেই মেয়র পদে মনোনয়ন দেবেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা তার পক্ষেই কাজ করবেন। সভায় নেতারা দাবি জানান মহানগর আওয়ামী লীগ থেকেই যেন মেয়র পদে প্রার্থী দেয়া হয়। জেলা বা সহযোগী সংগঠন থেকে প্রার্থী না দেবার পক্ষে অবস্থান নেন সভার সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা কর্মীরা।
নাম প্রকাশে অনিশ্চুক দুজন মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এ প্রতিনিধিকে জানান রংপুর মহানগরে ৩৩টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের যে কমিটি রয়েছে তা এক যুগ আগের পুরাতন সেখানে সভাপতি সম্পাদক ছাড়া বাকীরা দলের কর্মকান্ডে একটিভ নন। অতিসম্প্রতি যে থানা কমিটি কমিটি গঠন করা হয়েছে তাদেরও কার্যক্রম তেমন নেই। ফলে রংপুর সিটি করর্পোরেশন নির্বাচন করার মতো সাংগঠনিক শক্তি আওয়ামী লীগের নেই। তার উপর সভাপতি সম্পাদত গ্রæপিং নির্বাচনে বিরুপ প্রভাব ফেলবে বলে তারা জানান।
এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা নবিউল্লা পান্না বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষেই কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই কথা জানান মহানগর সহ সভাপতি দিলশাদ হোসেন মুকুল এ্যাডভোকেট।
সার্বিক বিষয়ে জানতে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, একক মেয়র প্রার্থী ঘোষনা করার পক্ষে কোন বক্তব্য আসেনি। সকলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষেই কাজ করবেন বলে নেতারা বলেছেন।
এম২৪নিউজ/আখতার