
স্টাফ রিপোর্টার (রংপুর):
রংপুরের আইনজীবী আসাদুল হককে দ্বিতীয় জানাযা শেষে মিঠাপুকুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) উপজেলার বালুয়া ছড়ান এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমের লাশ দাফন করা হয়। তাকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় নিহতের ছোট মেয়ে অংকন হক বাদী হয়ে তাজহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এরআগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহত আইনজীবী আসাদুল হকের ময়নাতদন্ত শেষে নগরীর ধর্মদাস বারো আউলিয়ায় প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে নিহতের গ্রামের বাড়ি মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া ছড়ান এলাকায় দ্বিতীয় জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। রংপুর মেট্রোপলিটন তাজহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রোকোনুজ্জামান জানান, দুইজন মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে রতন মিয়া জানিয়েছে। তবে ধারনা করা হচ্ছে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোন নেপথ্য রয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে সন্দেহ ভাজনদের জিজ্ঞাসা বাদের পদক্ষেপ নিচ্ছি। অপর হত্যাকারীকে গ্রেফতার করতে কয়েকটি পুলিশের টিম অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
রংপুর নগরীতে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে আসাদুল হক (৬০) নামে রংপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এক আইনজীবীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুই চোর। নিহত আসাদুল হক রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সদস্য ও সাবেক এপিপি এবং জাসদ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ছিলেন। এঘটনায় ঘাতক চোর রতনকে (২৭) আটক করেছে আরপিএমপি তাজহাট থানা পুলিশ। আটককৃত রতন ওই গ্রামের মৃত জাফর ড্রাইভারে ছেলে। গত শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে নগরীর ৩২ নং ওয়ার্ডের মডার্ন ধর্মদাস বারো আউলিয়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ওই আইনজীবীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিহত আইনজীবীর দুই মেয়ে। বড় মেয়ে আশা হক অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। করোনা পরিস্থিতিতে ছোট মেয়ে বগুড়া আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থী অংকন হককে নিয়ে স্ত্রী সাবেরা হক শেফালী তাদের গ্রামের বাড়ি মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া ছড়ান এলাকায় অবস্থান করছিলেন। আর ধর্মদাস বারো আউলিয়ার ওই বাড়িতে আসাদুল হক একা থাকতেন। শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েন রতন। এসময় আসাদুল হকের গলায় এবং পেটে ছুরিকাঘাত করে দেয়াল টপকে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা রতনকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে তাজহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আইনজীবীর লাশ উদ্ধার করে।
এদিকে স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, ঘাতক রতন একজন মাদকাসক্ত। সে ইয়াবা, হিরোইন বিভিন্ন ধরনের নেশায় আসক্ত। সে এলাকায় নিয়মিত চুরি ছিনতাই করতো। তার নামে থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও আইনজীবী আসাদুল হকের বাড়িতে বেশ কয়েকবার চুরি করেছে। এনিয়ে স্থানীয়ভাবে শালিসও হয়েছিল।
আজ (শনিবার) দুপুর ১টার দিকে লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের হাতে হস্তান্তর করে পুলিশ, পরে দুপুর ৩টায় স্থানীয় ধর্মদাস বারো-আউলিয়া ঈদগাহ মাঠে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার অফিসার্স ইনচার্জ শেখ রোকনুজ্জামান সংগীয় ফোর্সের উপস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে মরহুমের জানাযা কার্যক্রম শেষ করেন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উৎঘাটনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার, কাজী মোত্তাকী ইবনে মিনান, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ), শহীদুল্লাহ কাওছার,পিপিএম, সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতয়ালী জোন) জমির উদ্দিনসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তারা জানিয়েছেন আইনজীবী হত্যার মুল রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আরপিএমপি তাজহাট থানার ওসি শেখ রোকনুজ্জামান বলেন, রতন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড এবং ঘটনার সঙ্গে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এদিকে ওই ঘটনার খবর পেয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) শহীদুল্লাহ্ কাওছার, সহকারী কমিশনার জমির উদ্দিন, রংপুর বার সমিতির সভাপতি পিপি আব্দুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক প্রামানিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ সময় পিপি আব্দুল মালেক এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, আমরা মর্মাহত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়। আগামীকাল রবিবার বার সমিতির সভা করে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এম২৪নিউজ/আখতার।