রংপুরে আজও ধর্মঘট চলছে, ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ

রংপুর অফিস:

শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও সড়কে পুলিশি হয়রানি বন্ধ সহ পাঁচ দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো রংপুর থেকে ঢাকা গামী দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ধর্মঘট শুরুর ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে দাবি-দাওয়া নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি।

এদিকে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ শুরু হওয়া ধর্মঘটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। চলমান এই ধর্মঘট শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে ডাকা হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন রংপুর বিভাগের সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ।

শ্রমিকরা বলছেন, মালিক পক্ষ থেকে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এ নিয়ে পরিবহন মালিক সমিতির কেউই কথা বলতে রাজি হয়নি।

আজ বুধবার দুপুরে রংপুর নগরীর কামারপাড়া ঢাকা কোচস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন। তাদের মধ্যে টিকিট বিক্রি নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে হাঁকডাক নেই। দুই একটি কাউন্টার খোলা থাকলেও বন্ধ রাখা হয়েছে বেশির ভাগ কাউন্টার।

সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কামারপাড়া ঢাকা কোচস্ট্যান্ড থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি। ধর্মঘট শুরুর দিন মঙ্গলবার এনা ও শাহ্ ফতেহ আলী পরিবহনের কয়েকটি বাস চলাচল করলেও আজ চলাচল বন্ধ রয়েছে।

শ্রমিকদের দাবি- ২-৩টি পরিবহনের চালকদের বেতন ১ হাজার ৯৫০ টাকা, সুপারভাইজারের বেতন ৯০০ টাকা আর হেল্পারের বেতন ৮০০ টাকা করে দেওয়া হয়। সেখানে অন্য সব পরিবহনের স্টাফদের প্রায় এর অর্ধেক বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়। এই বৈষম্য দূর করে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির জন্য তারা মালিক পক্ষের কাছে দীর্ঘ দিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কোনো দাবি মেনে নেওয়া হয়নি।

এছাড়া সড়কে পুলিশি হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ, বিভিন্ন সময়ে মামলায় আটক শ্রমিকদের মুক্তিসহ পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নে পরিবহন মালিকসহ প্রশাসনের সহযোগিতা দাবি করেন তারা।
লিটন মিয়া নামের এক পরিবহন সহকারী বলেন, গত কাল মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে আমরা কর্মবিরতি পালন করছি। গতকাল ঢাকায় নেতাদের বৈঠকে বসার কথা ছিল। কিন্তু বৈঠক হয়নি। আজ বিকেলে বৈঠক থেকে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান।

হানিফ পরিবহনের বাসচালক আব্দুল হান্নান ভিন্ন কথা বলেন। তার দাবি মালিক পক্ষের লোকজন শুধু রংপুর থেকে ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে। এই ধর্মঘটের সঙ্গে শ্রমিক ইউনিয়ন জড়িত নয়। শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে বাস চলাচলের জন্য বলা হয়েছে।

ধর্মঘট ডেকে রমজান মাসে যাত্রী সাধারণের ভোগান্তি বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ডিপজল পরিবহনের কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েক জন যাত্রী। যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, সকাল থেকে ঘুরছি। কোনো বাস যাচ্ছে না। গ্রামে অসুস্থ বাবাকে দেখতে ছুটিতে এসেছিলাম। এখন ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরতে এসে ছুটোছুটি করতে হচ্ছে। এইভাবে হঠাৎ করেই ধর্মঘট ডেকে সাধারন মানুষকে দুর্ভোগে ফেলানোটা অন্যায়।

নগরীর কামারপাড়া ঢাকা কোচ স্ট্যান্ড উপ-কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিঠু বলেন, এই স্ট্যান্ডে আমার জানা মতে শ্রমিকরা পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়নি।মালিকরা কী কারণে পরিবহনগুলো বন্ধ রেখেছে, সেটি আমরা জানি না।

রংপুরের কামারপাড়া ঢাকা কোচ স্ট্যান্ডে থেকে ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও নগরীর অন্যসব জায়গা থেকে বাস চলাচল করছে। দুপুরে নগরীর মেডিকেল মোড় এবং মডার্ণ মোড় থেকে বিভিন্ন পরিবহনের আন্তঃজেলার বাস সহ বগুড়া, ময়মনসিংহ, বরিশাল, ঢাকা, চট্টগ্রামের বাস চলাচল করছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের রংপুর বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ বলেন, বাস চলাচল বন্ধ রাখার সঠিক কারণ আমার জানা নেই। কাদের নির্দেশে এই ধর্মঘটের ডাক দিয়ে মালিক পরিবহনের লোকেরা পরিবহন বন্ধ রেখে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে, তাদের খুঁজে বের করা উচিত। শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার সঙ্গে আমরা একমত। কিন্তু এই ধর্মঘট ইউনিয়নের ডাকা ধর্মঘট নয়।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply