
রংপুর অফিস:
দেশের অপসংস্কৃতির আগ্রাসনে তরুণ সমাজ উল্টোপথে বইছে। এদের সুস্থ ধারার শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সবাই বিশুদ্ধ আত্মা চাই, সুন্দর সমাজ চাই। কিন্তু বিশুদ্ধ আত্মা ও সুন্দর সমাজের জন্য লড়তে চাই না। এখন লড়াই ছাড়া আমাদের সাফল্য ও অর্জন নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে তরুণ সমাজকে সাথে নিয়ে আমাদের লড়তে হবে। এই লড়াই ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী-লেখকরা সাধারণ মানুষের অনুপ্রেরণা।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধায় রংপুর টাউন হল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় সাহিত্য সম্মেলনে অতিথিরা এসব কথা বলেন। প্রতিষ্ঠার এক যুগপূর্তি উদযাপনে বিভাগীয় লেখক পরিষদ রংপুর দুই দিনের অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
রংপুর বিভাগের কবি, সাহিত্যিক, লেখক, গবেষক ও সংগঠকদের নিয়ে দিনব্যাপী এই বিভাগীয় সাহিত্য সম্মেলনের সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার সাবিরুল ইসলাম।
বিভাগীয় লেখক পরিষদ রংপুর এর সভাপতি কাজী মোঃ জুননুন এর সভাপতিত্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, পুলিশের রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত উপ মহাপুলিশ পরিদর্শক (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এন্ড ফিন্যান্স) এ, এফ, এম আনজুমান কালাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) আবু বকর সিদ্দিক, বিশিষ্ট সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন, শিক্ষাবিদ ও লেখক ড. এআইএম মুসা, সাহিত্যিক ও সংগঠক রানা মাসুদ, কবি ও সম্পাদক (ভারত) সৌমিত বসু, কবি ও সংগঠক সোহেল মল্লিক, রংপুর প্রেসক্লাব সভাপতি মাহবুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জাকির আহমদ ও যুগপূর্তি উদযাপন কমিটির সদস্য শামসুজ্জামান সোহাগ।
এই সম্মেলনে বাংলাদেশ, ভারত ও প্রবাসী প্রতিথযষা কবি, সাহিত্যিক এবং রংপুর বিভাগের আট জেলার প্রায় চার শতাধিক কবি-সাহিত্যিক, লেখক ও সংগঠক অংশ নেন। সমাপনী পর্বের আগে ৫২৮ পৃষ্ঠার একটি বর্ণিল স্মারক গ্রন্থ ‘আনন’ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
রংপুর বিভাগের আট জন গুণী সাহিত্যিককে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন অতিথিরা। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিশেষ সম্মাননা, শ্রেষ্ঠ সংগঠক ও বিভাগীয় লেখক পরিষদের একটি জেলা কমিটিকেও বিশেষ পুরস্কার প্রদান করে। বন্ধু প্রতিম সংগঠন হিসেবে বিভাগের একটি সাহিত্য সংগঠনকে দেয়া হয় সম্মাননা স্মারক।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টায় শুরু হয় দিনব্যাপী আয়োজেনের উদ্বোধনী পর্ব।প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও সচিব এ এইচ এম লোকমান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. মো. হাসান কবীর, বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষৎ ও রঙ্গপুর গবেষণা পরিষদের সভাপতি প্রফেসর মোজাম্মেল হক, বাংলা একাডেমির উপপরিচালক আব্দুল্যাহ আল ফারুক, তিন বাংলার গ্লোবাল সভাপতি ও আমেরিকা প্রবাসী কবি-কথক সালেম সুলেরী।বিভাগীয় লেখক পরিষদ রংপুর এর সিনিয়র সহসভাপতি এস এম সাথী বেগমের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের সহসভাপতি রশীদুল ইসলাম চৌধুরী।
বিভাগীয় সাহিত্য সম্মেলন ১২টি পর্বে সাজানো হয়।জেলা সংগঠনগুলো থেকে কবিতা উচ্চারণের পাশাপাশি আলোচকরা সাহিত্য চর্চা নিয়ে বক্তৃতা করেন। বিভিন্ন পর্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ডা. মফিজুল ইসলাম মন্টু, প্রাইম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এডিশনাল ডাইরেক্টর মেজর (অবঃ) হারুন অর রশীদ, শিক্ষাবিদ ও মানবাধিকারকর্মী অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু, বাংলা একাডেমির সহকারী সম্পাদক আবিদ করিম মুন্না, অঞ্জলিকা সাহিত্যপত্র সম্পাদক কবি দিলরুবা শাহাদৎ, সিনিয়র সাংবাদিক মাহবুবুল ইসলাম, একেএম মঈনুল হক।
বিভাগীয় লেখক পরিষদ রংপুর এর যুগপূর্তি উদযাপনে দুই দিনের কর্মসূচির প্রথমদিন গত বুধবার মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দের বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রে ‘দুই বাংলার ছোটো কাগজ সম্পর্ক ও পার্থক্য’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনার হয়।
এম২৪নিউজ/আখতার