
রংপুর অফিস:
রংপুরে সরকারের পূর্বঘোষিত ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে। করোনার বিস্তার রোধে দেশের অন্যান্য জেলার মতো রংপুরেও বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে ব্যাপক তৎপরতা প্রশাসন। সকাল থেকেই মাঠে কাজ করে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসারসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আজ শুক্রবার ভোর ছয়টা শুরু হওয়া বিধিনিষেধে বেশির ভাগ সড়ক ফাঁকা থাকতে দেখা গেছে। বন্ধ রয়েছে দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সহ শপিংমল ও বিপণী বিতানগুলো। জরুরি সেবার আওতাভুক্ত ওষুধ, হোটেল, রেস্তোরাঁ, খাদ্য সামগ্রীর দোকান খোলা রয়েছে। চলাচল করছে রিকশা, অটোরিকসা, প্রাইভেটকারসহ বিধিনিষেধের আওতামুক্ত যানবাহন। তবে অলিগলিতে, মোড়ে মোড়ে ও বাজারে মানুষের অহেতুক ঘোরাফেরা ও উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
রংপুর মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ ২০টি পয়েন্ট ছাড়াও জেলা-উপজেলার প্রবেশপথে বসানো হয়েছে পুলিশি চেকপোস্ট। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া ও মাস্ক ছাড়া বের হওয়া মানুষদের করা হচ্ছে জেরা। পুলিশ চেকপোস্টে‘দাঁড়ান, কোথায় যাচ্ছেন? মুখে মাক্স নেই কেন? কাগজপত্র দেখান? এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ঘর থেকে হওয়া মানুষদের।
সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নগরের মডার্ন অর্জন মোড়, শাপলা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়, ডিসির মোড়, বাংলাদেশ ব্যাংক মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার বাহিনী মাঠে কাজ করছে।
শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হওয়াতে হাট-বাজারে মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করার মত ছিল। তবে পরিবহন সেবা পেতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষজনকে। বাড়তি ভাড়ার আশায় গ্রামগঞ্জের রিকশা, অটোরিকশা এখন রংপুর নগরমুখি। এতে পুরো নগরে রিকশার দৌরত্ম বাড়ার সঙ্গে বেড়েছে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে তর্কাতর্কির ঘটনাও। ঢাকা থেকে আসা যাত্রীদের পড়তে হয়েছে ভোগান্তিতে।সীমিত লকডাউনে মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার চলতে দেওয়া হলেও এখন তা চলতে দেওয়া হচ্ছে না।
রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অনেকটাই ফাঁকা রয়েছে। আঞ্চলিক সড়কগুলোতে নেই পরিবহনের চাপ। তবে পণ্যবাহী ট্রাক, পিকআপ ভ্যানসহ হালকা যানবাহন চলাচল করছে। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা উত্তরবঙ্গ অভিমুখে যাত্রীবাহি পরিবহনগুলো রংপুরে ঢুকতে দেখা গেছে।

রংপুর জেলা প্রশাসনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে রংপুর নগরে ২ পাল্টুন বিজিবি ৪টি ভাগে বিভক্ত হয়ে টহল দিচ্ছে। রংপুরের ৮ উপজেলায় আট টি এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি টহল টিম কাজ করছে। এছাড়া জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে মাইকিংসহ টহল অব্যাহত রয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ মেনহাজুল আলম বলেন, ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া বিধিনিষেধ কার্যকর করতে মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। কোনো গণপরিবহন চলতে দেওয়া হচ্ছে না। জরুরি প্রয়োজনে কিছু ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করছে। অহেতুক ঘোরাঘুরি বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।প্রয়োজন ছাড়া বের হলেই মামলা দেওয়া হচ্ছে।
এম২৪নিউজ/আখতার