
নিউজ ডেস্ক:
টানা বর্ষণে রংপুর নগরীর অলিগলিসহ বিভিন্ন সড়কে ও পাড়া-মহল্লায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে নগরীর অন্তত ২০টি মহল্লা পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত ১০ হাজার মানুষ।
রংপুরে মঙ্গলবার দুপুর ৩টা থেকে বুধবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১১২.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রংপুর আবহাওয়া অফিস।
জানা গেছে, বৃষ্টির পানিতে নগরীর শ্যামা সুন্দরী ও কেডি ক্যানেলে পানি বাড়ার সাথে সাথে হাঁটু পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে নগরীর বেশ কিছু ব্যস্ততম সড়ক ও নিম্নাঞ্চল। ফলে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকে।
মঙ্গলবার ও বুধবারের বৃষ্টিপাতে নগরীর অনেক এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। এর ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন নগরীর হাজার হাজার মানুষ। এছাড়াও বৃষ্টিতে নদী বেষ্টিত গঙ্গাচড়া, বদরগঞ্জ, কাউনিয়া, পীরগাছা ও পীরগঞ্জের অনেক নিচু এলাকায় মাছের ঘের, খাল-বিল, পুকুর ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।
বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে রংপুর নগরীর স্টেশন রোড সংলগ্ন পীরপুর রোড আজাদ গ্যারেজের সামনে ও আলমনগর খামারপাড়া, বাবুখাঁ, মুলাটোল থানা রোড, লালবাগ কেডিসি রোড, লালবাগ হাট সংলগ্ন গলি ও ধাপ এলাকার অধিকাংশ নিচু রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকার পাড়া-মহল্লায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বাসা-বাড়ির ভিতরে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করেছে। এতে সড়কে পাড়া-মহল্লায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। শরৎ ঋতুতে হঠাৎ হঠাৎ মেঘ ঝড়া আশ্বিনের বৃষ্টি কারো জন্য স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুর ৩টা থেকে বুধবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১১২.৫ মিলিমিটার। এভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নগরীর অনেক এলাকা তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি জানান, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় থাকার প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে ভারী ও অতি ভারীবৃষ্টি হচ্ছে, যা আরও তিন চারদিন অব্যাহত থাকতে পারে। ২৭ সেপ্টেম্বরের বৃষ্টিপাত কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র মাহমুদুর রহমান টিটু জানিয়েছেন, ঘাঘট নদী ও শ্যামা সুন্দরী খাল তলিয়ে যাওয়ায় এর তীরবর্তী এলাকায় শত শত বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। বুধবার বিকাল ৫টার দিকে বৃষ্টি একটু কমে যাওয়ায় উঁচু এলাকার পানি সরে গেলেও নিচু এলাকার পানি সরে যেতে আরও এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
এম২৪নিউজ/আখতার