
রংপুর অফিস:
রংপুরে নর্দান (প্রাঃ) মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের অন্যান্য বে-সরকারি মেডিকেল কলেজে মাইগ্রেশন দ্রুত বাস্তবায়ন এর নানাবিধ অসঙ্গতি অব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অবহিত করে শিক্ষার্থীরা স্বারকলিপি পেশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, সিটিকর্পোরেশনের মেয়র, মেট্রোপলিটন কমিশনার কে এই স্বারকলিপি পেশ করা হয়।
নর্দান প্রাইভেট মেডিকেল কলেজের অধ্যয়নরত দুর্ভাগা ছাত্র-ছাত্রীরা জানান, বেসরকারী মেডিকেল কলেজ স্থাপনা ও পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মেডিকের ও ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক প্রনয়নকৃত নীতিমালা কিংবা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নির্দেশনার বিন্দু-বিসর্গ না মেনেই বিগত কয়েক বছর যাবত বিভিন্ন মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের ১৫-২৫ লাখেরও বেশী অর্থ গ্রহনপুর্বক ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করে আসছে। আমরা বিভিন্ন ব্যাচের প্রায় ২৫০ জনেরও বেশী দেশী-বিদেশী শিক্ষার্থী জানতে পারি যে, কলেজটি ২০১৪-১৫ সেশন থেকে বিএমডিসি অনুমােদন এবং পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমদোন হারায় কিন্তু তার পরও সরকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রীট করে, সেই রিট এর উপর ভিত্তি করে এবং বিএমডিসির ভুয়া অনুমদোন দেখিয়ে স্বরল সহজ শিক্ষার্থীদেরকে ভর্তি করে আসছে। উল্লেখ্য যে, আমাদের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি প্রায় ১বছর যাবত বন্ধ ঘষোণা করা হয়েছে। এতেই শেষ নয়।
এই কলেজের অনিয়মের বর্ননা- আমাদের মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে ভাড়া করা শিক্ষক ও ভাড়া করা হাতেগােনা কয়েকটি রোগী দিয়ে। এই রােগীদের সম্মানীটুকু ও কলেজ কর্তৃপক্ষ বহন করে না। শিক্ষার্থী অনুপাতে বর্তমানে হাসপাতালে শিক্ষক সংখ্যা, রোগী, বেড সংখ্যা, প্যাথলজি ল্যাব, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি কোনটাই ক্লিনিক্যাল শিক্ষার জন্য পর্যাপ্ত নয়। শুধু মাত্র একাডেমিক দুর্বলতাই নয়, সাথে প্রশাসনিক ও আইনি যে বিষয়গুলো মানা আবশ্যক সেগুলােও মানতে কলেজ কর্তৃপক্ষ চরমভাবে উদাসীন। কলেজের নানাবিধ অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বিষয়ে অধ্যক্ষ ও মালিকপক্ষের দ্বারস্ত হলেও তারা আমাদের কোন কথা কর্নপাত করেন নাই, বরং মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে আসছেন। বর্তমানে তারা আমাদেরকে ও আমাদের অভিভাবকদের নানাবিধ অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করছেন এবং আমরা সবাই হুমকির সম্মুখীন হচ্ছি। শুধু দেশী শিক্ষার্থীই নয়, বিদেশী শিক্ষার্থীরাও এখানে পড়তে এসে বিপাকে পড়েছেন। ভিন্ন দেশে পড়াশুনা করতে এসে তারা বিভিন্ন হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। তাদেরকে গভীর রাতে হােস্টেল থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল।
ছাত্র ছাত্রীরা আরো বলেন, আমরা সবাই মধ্যবৃত্ত পরিবারের সন্তান, আমাদের পিতা-মাতা দিশেহারা ও আর্থিকভাবে সর্বশান্ত। আমরা ছাত্র-ছাত্রীরা অত্যন্ত ব্যথিত, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের চিন্তায় জর্জরিত। যা বর্ননা করার ক্ষমতা আমাদের নেই। এমতাবস্থায় এই কলেজের বেহাল অবস্থা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করার জন্য পুনরায় পরিদর্শনের অনুরােধ জানাচ্ছি এবংঅবস্থা বিবেচনা পূর্বক এই কলেজে শিক্ষারত প্রায় ২৫০ জন অসহায় ছাত্র-ছাত্রীকে অন্যান্য বেসরকারী মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করার আকুল আবেদন জানাচ্ছি।
এম২৪নিউজ/আখতার