রংপুরে নির্বাচনি সহিংসতায় বিজিবির গাড়িতে অগ্নিসংযোগ

রংপুর অফিস:

রংপুর সিটি করর্পোরেশন নির্বাচন পরবর্তি সহিংসতায় মঙ্গলবার রাত সোয়া ৮ টায় উত্তেজিত কাউন্সিল প্রার্থীর সমর্থকরা বিজিবির একটি টহল গাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ আছেন একজন বিজিবি সদস্য। অন্যদিকে একজন পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থীর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বিজয়ীর সমর্থকরা। এতে ৭ জন ছুরিকাহাত হয়েছেন।

রংপুর মেট্রোপলিন পুলিশের উপ-পুিলশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাত সোয়া আটটার দিকে ৪ নং ওয়ার্ডের আমাশু কুকরুল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ফলাফল প্রদানের সময় বর্তমান কাউন্সিলর ও এই নির্বাচনের কাউন্সিলর প্রার্থী হারাধন রায় হারা এবং অপর প্রার্থী একরামুল হকের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এসময় কেন্দ্রের সামনের সড়ক দিয়ে ৭. ৮ ও ৯ নংওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনকারী নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের সাথে থাকা বিজিবির একটি টহল গাড়ি যাচ্ছিল। উত্তেজিত জনতা হঠাৎ করে ওই গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে প্রাণভয়ে সেখানে থাকা ৬ বিজিবি সদস্যের মধ্যে ৫ জন নেমে পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নেয়। তখন উত্তেজিত জনতা ওই দোকানে হামলা চালালে তারা দৌড়ে পালিয়ে যায়। এসময় আবারও গাড়িতে হামলা চালালে সেখানে থাকা ড্রাইভার এবং অপর বিজিবি সদস্য গাড়ি থেকে নেমে যায়। তখন উত্তেজিত জনতা গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে গাড়ি। পরে ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশ এসে আগুন নেভায়।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনা জানার সাথে সাথে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির ৩ শতাধিক ফোর্স সেখানে উপস্থিত হয়ে। আমরা পুরো এলাকা রেকি করে তল্লাশী চালিয়েছি। কিন্তু রাত সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত নিখোঁজ বিজিবি সদস্যের খোঁজ পাওয়া যায় নি। তবে এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে আমরা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন থেকে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হারাধন রায় হারাকে গ্রেফতার করেছি। অন্যান্যদের গ্রেফতার সাঁড়াশি অভিযান চলছে। ঘটনাটি এতটাই অনাকাংখিত যে আমরা হতবাক হয়ে গেছি। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।হারাধন রায় হারা রংপুর মেট্রোপলিটন পরশুরাম থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ।

এদিকে কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মাহফুজুর রহমান জানান, একই সময়ে ২৬ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও এই নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী ফুলু হেরে যান। বিজয়ী প্রার্থী কোতয়ালী থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাদা আরমানের সমর্থকরা ফুলুর নুরপুরের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় ফুলুর স্ত্রী সন্তানসহ ৭ জন আহত হন। আহতদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সব বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ আবদুল বাতেন জানিয়েছেন, কোন ধরণের সহিংসতা আমরা জিরো টলারেন্সে মোকাবেলা করবো। অপরাধী যে দল কিংবা যত রাঘোববোয়াল হোক না কেন কেউ পার পাবে না। দুটি ঘটনাতেই আইনশৃঙখলা বাহিনী কাজ শুরু করেছে। এছাড়াও বাড়তি সতর্কতা নেয়া হয়েছে পুরো নগরীজুড়ে।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply