
রংপুর অফিস:
রংপুরে আর্মি-পুলিশের রেটে রেশন, ক্ষেতমজুরদের ১২০ দিনের কর্মসৃজন এবং ফসলের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠন।
দরিদ্র মানুষদের জন্য আর্মি পুলিশের রেটে রেশনিং ব্যবস্থা চালু, ক্ষেতমজুরদের সারা বছরের কাজ, ১২০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্প চালু,কৃষি ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাসহ ৫ দফা দাবিতে বুধবার সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠন রংপুর জেলার উদ্যোগে প্রেসক্লাব চত্তরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে।
বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের জেলা আহ্বায়ক কমরেড আনোয়ার হোসেন বাবলুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সদস্যসচিব আহসানুল আরেফিন তিতু এবং কৃষক নেতৃবৃন্দ।সবাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার ২০২৩ সালে দেশে দুর্ভিক্ষের আশংকা করছে। কোন কৃষি জমি যাতে পতিত না থাকে তার জন্য দেশবাসীকে পরামর্শ দিচ্ছে। অথচ যে কৃষক এই দুর্ভিক্ষের হাত থেকে দেশকে বাঁচাবে, তাকে বাঁচানোর কোন কোন উদ্যোগ সরকারের নেই। উচ্চ সুদের কৃষিঋন, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, কৃষি উপকরণের কোম্পানি নির্ভরতার কারণে দিন দিন বাড়ছে ফসলের উৎপাদন ব্যয়। আবার সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় কোন ফসলের বাম্পার ফলন হলেই দাম পড়ে যায়। ক্ষতি গ্রস্ত হয় কৃষক। ডিলাররা সরকার নির্ধারিত মূল্যে কখনোই সার বিক্রি করেনা, কৃষকের কাছ থেকে আদায় করে ঘুষ ও অতিরিক্ত মূল্য। সরকারী ভর্তূকিও পৌঁছায় না কৃষকের কাছে। এভাবে দিন দিন কৃষক ও কৃষি ব্যবস্থা ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে এসেছে দাঁড়িয়েছে। কৃষির জন্য অপরিহার্য যে ক্ষেতমজুর তাদের অবস্থা আরও খারাপ। বছরে তিনমাসের বেশি জমিতে কাজ থাকে না। বাকী সময় ক্ষেতমজুররা দুর্বিষহ জীবন কাটায়। একটা সময় ৪০দিনের কর্মসৃজন চালু ছিলো, এখন তাও নেই।
ক্ষেতমজুরদের বিকল্প কাজের ব্যবস্থা না করে অপরিকল্পিতভাবে কৃষির যন্ত্রীকরণের ফলে তাদের কাজের ক্ষেত্র অনেক সংকুচিত হয়েছে।এসমস্ত বিষয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার কোন উদ্যোগ সরকারের নেই। অবিলম্বে কৃষক ও ক্ষেতজুরদের রক্ষায় নিম্নোক্ত দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।
দাবি হলো, দরিদ্র মানুষদের জন্য আর্মি পুলিশের রেটে রেশনিং চালু কর, আপদকালীন ওএমএস-টিসিবি কার্যক্রম বাড়াও,সার, ডিজেল বিদ্যুতের দাম কমাও, লোডশেডিং, দুর্নীতি, ভেজাল বন্ধ কর,বিএডিসি চালু করে কম দামে কৃষি উপকরণ সরবরাহ কর, বকেয়া কৃষিঋণ মওকুফ কর, সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার কর, বিনা সুদে ঋণ ও নগদ প্রণোদনা চালু। এনজিও মহাজনী ঋণের দাপট ও হযরানি বন্ধ কর, কৃষি ফসলের লাভজনক মূল্য নিশ্চিত কর। ফসলের উৎপাদন মূল্যের বিপরীতে বাজারমূল্য কম হলে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। পঁচনশীল সকল ফসলের সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।১২০দিনের কর্মৃজন প্রকল্প চালু করার আহবান জানান।
এম২৪নিউজ/আখতার