
নিউজ ডেস্ক:
ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট পাগল মফস্বল শহরের এই ছেলেটির হাত ধরে আজ বাংলাদেশ পেল বিশ্বজয়ের স্বাদ। এরই মধ্যে দেশের মাটিতে পা রেখেছেন আকবর বাহিনী। সব ঠিক থাকলে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে রংপুরে আসার কথা বিশ্বজয়ী দলটির অধিনায়ক আকবরের।
বোনের মৃত্যুর ১৯ দিনের মাথায় শোককে শক্তিতে পরিণত করে দেশকে বিশ্বকাপ শিরোপার আনন্দে ভাসিয়েছেন এই আকবর। আকবর রংপুর শহরের পশ্চিম জুম্মাপাড়ার মোহাম্মদ মোস্তফার ছোট ছেলে।
শৈশব-কৈশোরের স্বর্ণালি দিনগুলো কেটেছে এখানেই। বাড়ির পাশে বেগম রোকেয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে নগরীর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন আকবর। এখানে অধ্যয়নরত অবস্থায় ২০১২ সালে বিকেএসপিতে সুযোগ পান। এরপর শুধুই এগিয়ে যাওয়ার গল্প।
এদিকে তার আগমন ঘিরে জুম্মাপাড়া ছাড়াও রংপুর নগরীতে শুরু হয়েছে সাজ সাজ রব। নিজ পাড়ায় যেন বইছে ঈদের আনন্দ। শিশু থেকে বয়োবৃদ্ধ সকলেই অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায়- কখন আসবেন ক্রিকেট সাম্রাজ্যের নতুন অধিপতি, তাদের প্রিয় আকবর! তবে এবারের আসাটা ঠিক যেন কোনো রাজ্য জয় করে ফেরার মতই।
গত রোববার রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারিয়ে যে বিজয়ের সূচনা হয়, তার ঢেউ এখনো আছড়ে পড়ছে আকবরের জন্মভূমি রংপুরে। এ কারণে নগরীর পাড়া-মহল্লা জুড়ে এখন একটাই নাম ‘আকবর দ্য গ্রেট’।
এরইমধ্যে পশ্চিম জুম্মাপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবের আয়োজনে শুরু হয়েছে মঞ্চ তৈরির কাজ, দেয়া হবে সংবর্ধনা। সে সঙ্গে তাকে সংবর্ধনা দিতে প্রস্তুত রংপুর সিটি কর্পোরেশনও।
বাড়ির পাশে সিটি বাজারে একসময় পেঁয়াজের ব্যবসা করতেন আকবর আলির বাবা মোহাম্মদ মোস্তফা। বর্তমানে ফার্নিচার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তিনি। মা শাহিদা বেগম গৃহিণী। এই দম্পতির চার ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সবার ছোট আকবর।
নগরীর পশ্চিম জুম্মাপাড়ায় আকবর আলির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ ভিড় করছেন সেখানে।
কয়েকজন প্রতিবেশি বলেন, শান্ত স্বভাবের আকবর ‘যে গলিতে টেপ টেনিস বল দিয়ে খেলতো, সেই জুম্মাপাড়ার গলি থেকে উঠে আসা আকবরের হাতে টেপ টেনিস বলের বদলে এখন বিশ্বকাপ! এটা আমাদের রংপুরবাসীর জন্য গর্বের। আমরা মনে করি, সারা বাংলাদেশের সঙ্গে রংপুর আরো একধাপ এগিয়ে গেল এই আকবরের হাত ধরেই।’
পশ্চিম জুম্মাপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের হয়ে আকবর যে ক্রীড়া নৈপূণ্য দেখিয়েছে সেজন্য রংপুরের মানুষ হিসেবে আমরা গর্বিত। আর তাই ক্লাবের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা প্রদানের আয়োজন করা হচ্ছে।’
ভালোলাগার অনুভূতি ব্যক্ত করা থেকে পিছিয়ে নেই এই পাড়ার আকবর ক্ষুদে ভক্তরাও। তাদের প্রিয় আকবর ভাই বিজয়ী হয়েছে, এ যেন ঈদের দিনের মতই খুশি আর আনন্দের দিন। তাইতো আকবরের বাড়ির সামনেই ঘুরঘুর করছে ক্ষুদে বাহিনীর এ দলগুলো।
তবে এতসব আনন্দ আয়োজনের মাঝেও বিষাদের কালো মেঘ যেন ছুঁয়ে আছে আকবরের পরিবারের মাঝে। যে শোকের ছায়া হয়তো আকবরের মনের এক কোণে জমা হয়ে আছে।
বীরের বেশে বাড়ি ফিরবে ভাই, সেটা আর দেখা হবে না একমাত্র বোন খাদিজা খাতুনের। জমজ সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে গত ২২ জানুয়ারি মারা যান বাকশক্তিহীন খাদিজা। এমন খবরেও আকবর মুষড়ে যাননি, বোনকে হারানোর শোক থেকেই শক্তি সঞ্চয় করে শিরোপার পথে দলকে নিয়ে গেছেন আকবর।