রংপুরে ভিকটিম সার্পোট সেন্টার তরুনীর মৃত্যুর ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

রংপুর অফিস:

রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার ভিকটিম সার্পোট সেন্টাওে তরুনী আত্মহত্যার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা তদন্তে মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার রাতে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আবু মারুফ হোসেন জানান, পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মেনহাজুল আলম ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) মাহব-উল-আলম।

এছাড়া দায়িত্বে অবহেলার কারণে এএসআই নাদীরা আক্তার ও কনস্টেবল আফরোজা বেগমকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।প্রেমিক আকাশ ওরোফে মিথুনকে গ্রেপ্তার করেছে। ভিকটিম সার্পোট সেন্টারে রুহি আক্তার রুহি (১৯) নামে তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনায় গ্রেফতার মিঠুন ওরফে আকাশ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার ভিকটিম সার্পোট সেন্টারে রুহি আক্তার রুহি (১৯) নামে তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনায় গ্রেফতার মিঠুন ওরফে আকাশ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রাজু আহমেদের নিকট জবানবন্দি দেয়া হয়। সোমবার সন্ধায় কথিত প্রেমিক মিঠুন ওরফে আকাশকে পুলিশ গঙ্গাচড়া উপজেলা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) হোসেন আলী জানান, মিঠুন আদালতে ১৬৪ ধারায় রুহি আক্তার রুহির সাথে মোবাইল ফোনে পরিচয় ও প্রেমের কথা স্বীকার কেেরছে। এছাড়া রুহির আত্মহত্যার আগে মিঠুনের মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ দিয়েছিল আমি যদি তোমাকে না পাই তা হলে আত্মহত্যা করব। আদালতে জবানবন্দি শেষে মিঠুনকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হোসেন আলী গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রুহির বাবা সেকেন্দার আলী মিথুনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা করেন। পরে মেয়েটির মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে যাচাই করে মিথুনকে শনাক্ত করা হয়। মিথুন নিজেকে আকাশ পরিচয় দিয়ে মেয়েটির সঙ্গে প্রেম করতো।গতকাল সোমবার রাতে তাকে গঙ্গাচড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, রংপুর মেট্রোপলিটন ভিকটিম সার্পোট সেন্টার থেকে রুহি আক্তার রুহি (১৯) নামে ওই তরুনীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এদিকে সোমবার সন্ধায় কথিত প্রেমিক মিতুন ওরফে আকাশকে পুলিশ গঙ্গাচড়া উপজেলা থেকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার মিথুন গঙ্গাচড়ার ধামুর মুন্সিপাড়া এলাকার ইবাদত আলীর পুত্র। সে আকাশ নাম ধারন করে তরুনীর সাথে প্রেম করছিল।

মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) হোসেন আলী গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরে প্রকৃতঘটনা জানা যাবে।

পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ড এলাকার সেকেন্দার আলীর মেয়ে রুহি আক্তারের সঙ্গে রংপুরের আকাশ নামে এক যুবকের মোবাইলফোনে প্রেমের সম্পর্ক হয়। সেই সূত্রধরে প্রেমিক তাকে শনিবার রংপুরে আসতে বলে। রুহি আক্তার ফোন পেয়ে ঝিনাইদহ থেকে রংপুরে আসেন।

রংপুর নগরীর সাহেবগঞ্জ এলাকায় পৌঁছে আকাশের মোবাইলফোনে কল দিয়েও যোগাযোগ করতে পারেনি। পরে রুহি ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করতে থাকলে শনিবার রাতে এলাকাবাসী ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে হারাগাছ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রুহিকে উদ্ধার করে কোতয়ালী থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠায়। সেখানে অবস্থানের দ্বিতীয় দিন রোববার রাতে সিলিংয়ে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন রুহি। পরে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) হোসেন আলীর দাবী, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের ফ্যানে ফাঁস দিয়ে ওই তরুণী আত্মহত্যা করেছে। দুপুরে তার লাশ ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হন্তার করা হয়েছে। এবিষয়ে একটি ইউডি মামলা করা হয়েছে। গ্রেফতার মিথুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply