রংপুরে রোজার আগেই নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, অস্বস্থিতে নিম্ন আয়ের মানুষ

রংপুর অফিস:

রংপুরের বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমলেও ঊর্ধ্বমুখী নিত্যপণ্যের দাম। খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে আলু ও পেঁয়াজের।মার্চের শেষ সপ্তাহে এসে সবজির অনেকটা কমে গেছে। তবে লাগামহীন বেড়েই চলছে বাজারে তেল ও চালসহ নিত্যপণ্যের দাম।রোজার আগেই নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি অস্বস্থিতে নিম্ন আয়ের মানুষের নাভিস্বাশ উঠেছে।

আজ রবিবার (২৮মার্চ) সকালে রংপুর জেলার বিভিন্ন বাজারে সবজি বাজার দর-পেঁয়াজ ৪০-৪২, রসুন ৬০-৭০, সরিষা, মসুর ডাল ১০০-১০৫ টাকা কেজি, তেল তীর ও রূপচাঁদা-১ লিটার- ১৩৬ টাকা, চিনি-৬৮ টাকা, ফুলকপি ২০-২৫ টাকা প্রতি পিস। বাঁধাকপি প্রতি পিস ১০-১২ টাকা, শসা ৩৫-৪০টাকা কেজি, টমেটো ১৫-২০ ও দেশি টমেটো-৪০ টাকা কেজি, কাঁচা পেঁপে ২০-২২ টাকা, ঢেঁড়স ৪৫-৫০ টাকা, শিম ২০-২৫ টাকা, বেগুন ২০-২৫ টাকা, কাঁচামরিচ ৩০-৪০ টাকা কেজি এবং লাউ প্রতি পিস ২০-২৫ টাকা, দেশি শিল আলু দাম ২০-২৫ টাকা, পটোল ৪০-৪৫ টাকা কেজি ও করলা ৩০-৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

রংপুরের কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী বিভাগের ৮ জেলায় চলতি বছর সবজি আবাদ হয়েছে প্রায় ১৯ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে।

চাষিরা বলছেন, বেশি দামের আশায় তারা এ বছর সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। ফলনও অনেক ভালো হয়েছে। তবে শেষ দিকে দাম কমে যাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের।

রংপুর জেলা তেল ও চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কাজী মো.জুনুনন বলেন, চিনি ও তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ হল মিল মালিকরা সরবরাহ কমিয়ে দিলে বাজারে পণ্যের ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। আর মিল মালিকরা তাদের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখলে এই সমস্যা হতো না। সামনে রমজান এ ভাবেই ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়বে।পাইকারি ও খুচরা বাজারেও চালের দাম বেড়ে গেছে। লতা চালের ৫০ কেজির বস্তা, ২৫ শ থেকে ২৬ শ টাকা খুচরা ও পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে। মিনিকেট চাল বস্তা প্রতি ২০০ টাকা বৃদ্ধিতে এখন ৩ হাজার ৩শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন নামে চাল প্রতি কেজিতে ১৫-২৫ টাকা বাড়ছে। ভোজ্য তেলের মধ্যে শুধু সোয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় বাংলাদেশে এই ভোজ্য তেলের দাম বেড়ে গেছে।

রংপুর জেলায় ছোট বড় মিলে শতাধিক বাজার বসে প্রতিদিন। এসব বাজারে মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত সবজির বাজার ওঠানামা করছিল। আর গত ১০ জানুয়রী থেকে প্রতিদিন পাইকারি ও খুচরা বাজারে সবজির দাম কমতে শুরু করছে। কেজি প্রতি ১০-১৫ টাকা কমে গেছে সবজির দাম। দাম কমে যাওয়ায় কৃষক ও খুচরা ব্যবসায়ীদের লোকসান হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

রংপুর নগরীর পৌরবাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, এক মাস আগে থেকে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। তেলের দাম বেড়েই চলছে। এতে ক্রেতাদের নিত্যপণ্য ক্রয় করতে হিমশিম ক্ষেতে হচ্ছে।

রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানান, বাজারে সবজির দাম নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। তবে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি কেউ বিক্রি করতে পারবে না। যারা করবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply