
রংপুর অফিস:
রংপুরে দেশের অন্যান্য জায়গার মতো বিদ্যুতের সমবণ্টন ও সময়সূচি মেনে লোডশেডিংয়ের দাবিতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সময়সূচি অনুসরণ করতে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের কাছে দাবি জানানো হয়। না হলে লোডশেডিং নিয়ে বৈষম্য নিরসনে বৃহৎ আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন বিক্ষুদ্ধ আন্দোলন কারীরা।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর নগরের কলেজ রোডে নেসকোর বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যালয়ের সামনে রংপুরবাসীর পক্ষে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও দিনমজুর, অটোচালক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও গৃহিণী অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, রংপুরে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকার ঘোষিত নির্দেশনা অমান্য করে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ে সময়সূচির কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। যেখানে দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং হবার কথা, সেখানে সারাদিনে অন্তত ৫-৬ বার লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। আমরা রংপুরবাসী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৬-৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছি।
তারা বলেন, আমরা লোডশেডিংয়ের বিপেক্ষ নই। কারণ সংকট মোকাবিলায় সরকার একটি ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু আমরা নিয়ম মাফিক লোডশেডিং চাই। সারা দেশের চিত্র আর রংপুরের চিত্র এক নয়। এখানে ঘন ঘন লোডশেডিং দেওয়াতে ব্যবসা-বাণিজ্য, উৎপাদন, পড়ালেখা ও কর্মক্ষেত্রসহ জনজীবন ব্যাহত করছে। অতিরিক্ত গরম আর লোডশেডিংয়ে শিশু ও বয়স্করা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। দিনের মতো রাতের বেলাতেও ঠিক মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে না। এমন অসহনীয় লোডশেডিং বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সময়সূচি মেনে লোডশেডিং দিতে হবে। নাহলে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আগামীতে বৃহৎ কর্মসূচি দেওয়া হবে।মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন অভিনয়শিল্পী আদনান চৌধুরী, শিক্ষার্থী উদয় কুমার দাস, শাহরিয়ার, সুবা নাহিয়ান, ব্যবসায়ী ইস্তেফাক আহমেদ নূর, মাহবুবার রহমান, গৃহিনী হোসনে আরা পপি ।
মানববন্ধন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হবার কথা থাকলেও অনুমতি না থাকায় প্রথমে পুলিশি বাধার সম্মুখীন হন আয়োজকরা। পরে অবশ্য তাদেরকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য মানববন্ধন করতে দেওয়া হয়। বিদ্যুৎতের সমবণ্টন নিশ্চিত করাসহ সময়সূচি মেনে লোডশেডিংয়ের দাবি সম্বলিত পোস্টার ও ব্যানার নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন। কর্মসূচি শেষ করে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) লিমিটেডের রংপুর বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর স্মারকলিপি দেন।
নেসকোর রংপুর বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ শাহাদৎ হোসেন বলেন, রংপুরে দিনের বেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ৭০০ থেকে ৭৫০ মেগাওয়াট আর সন্ধ্যায় ৯০০ থেকে ৯৫০ মেগাওয়াট।
চাহিদার তুলনায় রংপুরে যে ঘাটতি রয়েছে তার প্রভাবে সময়সূচি মেনে লোডশেডিং দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমরা এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের যে সময়সূচি তৈরি করেছি তা পরিবর্তন করে লোডশেডিং কমিয়ে আনার চেষ্টা করব।
এম২৪নিউজ/আখতার