সাদ ও রিটার পাশে নেই দলের নেতারা

নিউজ ডেস্ক:

রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নেমেছেন প্রার্থীরা। তবে আগামী ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় এখনো ভোটের আমেজ নেই। ভোট নিয়ে ভোটারদের মধ্যে তেমন আগ্রহ-উদ্দীপনাও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা) মনোনীত এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী সাদ এরশাদ প্রচারণায় নামলেও তার সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ-জাপার উল্লেখযোগ্য কোনো নেতাকে দেখা যাচ্ছে না। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রিটা রহমানও অনেকটা একাই মাঠে ঘুরছেন। অন্যদিকে জাপার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের ভাতিজা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফ শাহরিয়ার নিজস্ব কর্মীবাহিনী নিয়ে মাঠে তত্পর রয়েছেন।

এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনের ভোটার ও স্থানীয়দের মতে, প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দলীয় কোন্দলের কারণে সাদ ও রিটার পক্ষে সক্রিয় নেই স্থানীয় নেতারা। দল বা জোটের প্রার্থীর পক্ষে নেতারা সক্রিয় না হওয়ায় কর্মীরাও নিষ্ক্রিয়। তৃণমূল নেতাদের দাবি উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত সাদকে প্রার্থী করায় বিষয়টিকে এখনো মেনে নেননি স্থানীয় জাপা নেতারা। সাদের সমর্থনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী রেজাউল করিম রাজুকে প্রত্যাহার করায় ক্ষুব্ধ ক্ষমতাসীন দলের তৃণমূল নেতারাও। আর নিজের ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি বিলুপ্ত করে সদ্য বিএনপিতে যোগদানকারী রিটাকে নিয়ে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন থেকেই সংক্ষুব্ধ বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

‘লাঙ্গল’ প্রতীকের প্রার্থী সাদ এরশাদ বুধবার ও বৃহস্পতিবার রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, মডার্ন মোড়, তাজহাট, দমদমা এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে গণসংযোগ করে ভোট চেয়েছেন। এ সময় জেলা জাপার কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত থাকলেও রংপুর মহানগর জাপার নেতাকর্মীদের কাউকে সাদের সঙ্গে দেখা যায়নি। জাপার মনোনয়নপ্রত্যাশী ও রংপুর মহানগর জাপার সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াছির নির্বাচনে সাদকে সমর্থনের ঘোষণা দিলেও তিনি নিষ্ক্রিয়। জাপার আরো দুই মনোনয়নপ্রত্যাশী ফখর-উজ-জামান ও আবদুর রাজ্জাকও বলেছিলেন, তারা সাদকে সমর্থন জানাবেন। তবে প্রচারণার মাঠে এই দুইজনও নেই সাদের সঙ্গে। আর জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা নিজের আগের অবস্থানে অটল থাকার কথা জানিয়ে বলেছেন, প্রার্থী মনোনয়নে তৃণমূলের দাবিকে উপেক্ষা করায় এই নির্বাচন নিয়ে তার কোনো ‘মাথাব্যথা’ নেই।

যদিও সাদ গতকাল রংপুর থেকে টেলিফোনে ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমার পক্ষে সবাই আছেন। কারা আছেন নাম বলতে পারব না। ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছি। ভোটাররা বলছেন, তারা আমাকেই ভোট দেবেন। আমার বাবার (এরশাদের) অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে স্থানীয়রা সংসদে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে আমাকেই দেখতে চান।’

সাদের সঙ্গে প্রচারণায় দলের তৃণমূল নেতাদের না থাকার বিষয়ে জাপা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘যারা মনোনয়ন পাননি তারা আগেই বলে দিয়েছেন, তারা কোনো দিকে থাকবেন না। তবে সকল ওয়ার্ডের নেতারা সাদের সঙ্গে আছেন। আমি রংপুরের সেন্টিমেন্ট জানি। অন্তত এক লাখ ভোট বেশি পেয়ে সাদ জিতবে।’ রাঙ্গা জানান, আজ শুক্রবার বিকালে আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে তিনি বৈঠক করবেন। বৈঠকের পর আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরাও সাদের পক্ষে মাঠে নামবেন।

‘ধানের শীষ’ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী রিটা রহমান বুধবার দুপুরে নগরীর শিমুলবাগ কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির হাতেগোনা কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত থাকলেও জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাউকে তার পাশে দেখা যায়নি। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের শরিক দলগুলোর নেতাকর্মীদেরও রিটার পক্ষে এখনো মাঠে নামতে দেখা যায়নি। এ প্রসঙ্গে রংপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু বলেন, ‘প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে স্থানীয় বিএনপিতে দ্বন্দ্ব আছে।’

এরশাদের ভাতিজা ও ‘মোটরগাড়ি’ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফ শাহরিয়ার কর্মীবাহিনী নিয়ে বুধবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে গণসংযোগসহ প্রচারণা চালিয়েছেন। এসময় আসিফ বলেন, ‘লাঙ্গল প্রতীক বরাদ্দ দিতে যেহেতু দল বাইরের মানুষকে নিয়ে এসেছে তাই রংপুরের মানুষ তাকে মেনে নিচ্ছে না। সেই সুযোগটা আমি নেওয়ার চেষ্টা করব। ভোটাররা আমার পক্ষে থাকবে বলে আশাবাদী।’

সুত্র: দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা। (20.09.2019)

M24News/এসএ

Leave a Reply