রমেক হাসপাতালে যন্ত্রপাতি অচল, রোগীদের ভোগান্তি

নিউজ ডেস্ক:

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে রোগ নির্ণয়ের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি অচল থাকায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বাইরে থেকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হচ্ছে। এতে করে তাদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বেড়ে যাচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের এনজিওগ্রাম, ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, সিটি স্কেন, কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস মেশিন, অপারেশনের যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করণ মেশিনসহ বিভিন্ন মেশিন নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। কবে নাগাদ এসব যন্ত্রপাতি ভালো হবে তা সঠিক বলতে পারছে না হাসপাতালের পরিচালক। 

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক রেয়াজুল করিম জানান, আগামী শনিবার কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস মেশিন মেরামতের জন্য ঢাকা থেকে প্রকৌশলীরা আসবেন তারা দেখার পর বলা যাবে কবে নাগাদ কিডনি ওয়ার্ড চালু করা যাবে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডায়ালাইসিস বিভাগটি ২০ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে কিডনি রোগীরা ডায়ালাইসিস করতে পারছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিডনি ওয়ার্ডের এক সেবিকা জানান, ডায়ালাইসিসের পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্ট এবং বেশ কয়েকটি ডায়ালাইসিস মেশিন বিকল হওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। সাত লাখ টাকা খরচ করলে দুটি পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্ট বসানো সম্ভব। 

ডায়ালাইসিস বিভাগ থেকে প্রতি মাসে আয় প্রায় চার লাখ টাকারও বেশি। ৮ এপ্রিল থেকে ডায়ালাইসিস মেশিনগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ওয়ার্ডটি এখন রোগী শূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। 

টেকনিশিয়ান মাসুদ মিয়া জানান, চলতি মাসে ডায়ালাইসিস ইউনিটটি বন্ধ রয়েছে। পিউরিফাইড পানি শোধনের জন্য মেশিন দুটি বিকল থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি। একজন কিডনি রোগীকে চার ঘণ্টাব্যাপী ডায়ালাইসিস করতে হয়। 

রমেক হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করতে ছয় মাসের প্যাকেজে মাত্র ২০ হাজার টাকা লাগে। প্রতিবার ডায়ালাইসিস করতে খরচ পড়ে ৪০০ টাকা। আর বাইরে করলে প্রতিবার তিন হাজার টাকা। ২০ দিনে ১৮ জন রোগী মারা গেছেন।
 
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি ওয়ার্ডের ইনচার্জ মোখলেসুর রহমান জানান, এই ওয়ার্ডে ডায়ালাইসিস মেশিন আগে ছিল ৩০টি, এখন ১৮টিতে দাঁড়িয়েছে। বাকিগুলো বিকল হয়ে পড়ে আছে। তার পরেও রোগীদের সেবা দেয়া চলছিল কিন্তু দুটো মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ডায়ালাইসিস পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। 

হাসপাতালের কিডনি বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আনিসুজ্জামান জানান, মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ডায়ালাইসিস করা যাচ্ছে না। রোগীদের চিকিৎসা হচ্ছে না। 

রমেক হাসপাতালের সদ্য যোগদানকারী পরিচালক রেজাউল করিম জানান, হাসপাতালের অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকগুলোর মেয়াদ শেষ হয়েছে। জোড়াতালি দিয়ে কোনো রকমে চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, সিটি স্কেন মেশিন হ্যান্ডওভার করা হয়েছে। অল্প দিনের মধ্যে চালু করা হবে। আগামী শনিবার ঢাকা থেকে প্রকৌশলীরা এসে কিডনি বিভাগের মেশিনগুলো পরীক্ষা করে দেখবেন। আশা করছি এই সংকট আর থাকবে না। সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply