
রংপুর অফিস:
রংপুর সিটি করর্পোরেশনের ফতফসিল ঘোষণার আগেই নির্বাচনী সাজে ছেয়ে গেছে নগরী। আগামী ডিসেম্বরে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হতে পারে। এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম শাহাতাব উদ্দিন।
তিনি বলেছেন, নভেম্বরের শেষের দিকে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে। এ লক্ষে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ চলছে।এ সিটিতে ইভিএমে ভোট গ্রহণে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে, নগরীর সড়ক-পথঘাটে নির্বাচনী গেট, ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে।সম্ভাব্য প্রর্থীরা নিজেকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করে দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কমপক্ষে হাফ ডজন নেতা।বসে নেই বিএনপির নেতারাও।নির্বাচনী প্রচারণায় জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হয়ে পূনরায় নির্বাচিত হতে দলকে সুসংগঠিত করছেন।
রংপুর সিটি করর্পোরেশনের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার প্রায় এক মাস আগে রোবরার নগরী ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। অবস্থার দৃষ্টে এই চিত্র দেখলে মনেহয় সপ্তাহ পেরুলেই নির্বাচন।
রংপুর সিটি করর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের সপ্তম এই সিটি কর্পোরেশনে সর্বশেষ নির্বাচন হয় গত ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর। নির্বাচিতদের প্রথম সভা হয় ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি। এ হিসেবে অনুযায়ী গত ১৯ আগস্ট থেকে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিতদের মেয়াদ ধরা হয় প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর, বর্তমান পর্ষদের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। এ হিসেবে রংপুর সিটিকর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৩ সালের ১৮ ফেব্রæয়ারী মাষে।
রংপুর নগরী ঘুরে দেখা গেছে সিটি নির্বাচনে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা স্থানীয় লোকজনের সেবার মাধ্যমে নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। হাট-বাজার ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন তারা।
জানাগেছে, রংপুর সিটি করর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারণায় নেমেছেন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের প্রায় একডজন নেতা। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়জন, জাতীয় পার্টির একজন, বিএনপির তিনজন ছাড়াও জাসদ, বাসদ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন প্রার্থীর নাম আলোচনায় রয়েছে।
আওয়ামী লীগ থেকে মাঠে প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে আছেন, এ প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে জনসমর্থন আদায়,দলীয় মনোনয়ন চেয়ে নগরীর সড়কে ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন ও স্টিকার লাগিয়েছেন। পাড়া-মহল্লাতে সভা-সমাবেশ করছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নেতারা বর্তমান সরকার ও ইসির অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিলেও রংপুর সিটি নির্বাচনে অংশ নিতে তাদের দলের দু-একজন নেতা প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
রংপুরের নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলেছেন, এ সিটি নির্বাচনে মূলত লড়াই হবে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর মধ্যে। বিএনপি এবারের নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নাও নিতে পারে।
তারা বলছেন, বিগত নির্বাচনে জাতীয় পার্টি পেয়েছিল ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৮৯, নৌকা প্রতীক পেয়েছিল ৬২ হাজার ৪০০, ধানের শীষ পেয়েছিল ৩৫ হাজার ১৩৬ এবং ইসলামী আন্দোলন পেয়েছিল ২৪ হাজার ৬ ভোট।এ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর নির্ভর করছে নির্বাচনী মাঠের প্রতিদ্বন্ধিতা।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মহানগর সভাপতি বর্তমান মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তাফিজার রহমান বলেন,গত পৌনে পাঁচ বছরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। করোনা মহামারির মধ্যেও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং জনসেবা বন্ধ ছিল না। এই নগরকে পরিকল্পিত ও গোছালো হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম শাহাতাব উদ্দিন বলেন, নভেম্বরের শেষের দিকে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে। এ লক্ষে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ চলছে।এ সিটিতে ইভিএমে ভোট গ্রহণে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। আগামী ডিসেম্বরের শেষের দিকে এ নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, রংপুর পৌরসভা থেকে ৩৩টি ওয়ার্ড নিয়ে সিটি কর্পোরেশন গঠন হয় ২০১২ সালের ২৮ জুন। প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ওই বছর ২০ ডিসেম্বরে। প্রথম মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন সরফুদ্দিন আহমেদ ঝণ্টু। বর্তমানে এই সিটির জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। ভোটার রয়েছে চার লাখের বেশি। ২০১৭ সালের দ্বিতীয় নির্বাচনের সময় ভোটার ছিল ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪ জন।
এম২৪নিউজ/আখতার