
* কাদেরকে ফখরুলের ফোন * প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে : ওবায়দুল কাদের * প্যারোলে হলেও মুক্ত করতে চাই : সেলিমা
নিউজ ডেস্ক:
গত দুই বছর যাবত্ কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের ক্রম অবনতির প্রেক্ষিতে সরকারি নির্বাহী আদেশ বা প্যারোলে তার মুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তার ভাই শামীম ইস্কান্দার তাকে বিদেশ প্রেরণের জন্য মেডিক্যাল বোর্ডের সুপারিশ চেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে ব্যর্থ হন।
পরে, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্যারোলের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ফোনালাপ করেন। ফোন করে প্যারোলে মুক্তির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করতে বলেন। গতকাল ওবায়দুল কাদের জানান, তিনি ফখরুলের মৌখিক আবেদনের কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। ওবায়দুল কাদের বৃহস্পতিবার বলেন, তারা (বিএনপি) লিখিতভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্যারোলের জন্য আবেদন করেননি। এখন লিখিত আবেদন করলেও এই আবেদন কারণসহ যুক্তিসঙ্গত হতে হবে। যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা সরকার বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোল বিবেচনা করতে পারেন না। তিনি বলেন, বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সরকার তার প্রতি অমানবিক আচরণ করতে পারে না। তার চিকিত্সার ব্যাপারটি সরকারের সুনজরে আছে।
ভাই শামীম ইস্কান্দার বলেন, তার দ্রুত অবনতিশীল স্বাস্থ্যের পরিপ্রেক্ষিতে যে কোনো অপূরণীয় ক্ষতি এড়াতে বিদেশি হাসপাতালে চিকিত্সা প্রয়োজন। আবেদনে খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে ব্যয় বহনসহ উন্নত চিকিত্সার ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে আসতে হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বেগম জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে কী করা হচ্ছে আমার জানা নেই। তবে তার স্বাস্থ্যের অবস্থা খুবই খারাপ। এ অবস্থায় পরিবার চাইলে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এদিকে বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে দ্রুত আবেদন করবেন আদালতে।
জানা গেছে, আইনিপ্রক্রিয়া কিংবা রাজপথে আন্দোলনে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর তাদের সামনে এখন একটি পথই খোলা—নির্বাহী আদেশ বা প্যারোলে মুক্তি। দলের একাধিক নেতা জানান, খালেদা জিয়া নিজে এত দিন চাননি প্যারোলে তার মুক্তি হোক। কিন্তু ৭৫ বছর বয়সি সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যের উদ্বেগজনক অবনতির কারণে পরিবারের সদস্যদের ওপর সিদ্ধান্তের ভার দিয়েছেন। তার পরই পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বিদেশে পাঠানোর জন্য প্রথমবারের মতো লিখিত আবেদন করা হয়। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিত্সক ও ভাগ্নে ডা. মামুন সব প্রক্রিয়া তদারকি করছেন। সরকারের সায় থাকলে সব আইনিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মেডিক্যাল বোর্ডের সার্টিফিকেট ও স্থানান্তরের সুপারিশ নিয়েই সুচিকিত্সার জন্য খালেদা জিয়াকে লন্ডন পাঠানো হতে পারে। দলের নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ মনে করেন যে, প্যারোল মানেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো স্বীকার করে নেওয়া। আপসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়ার জন্য প্যারোল মোটেই সম্মানজনক হবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তারা নমনীয়। তারা এখন প্যারোলের পক্ষেই মত দিচ্ছেন। কারাগারে ধুকে ধুকে মরার চেয়ে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে উন্নত চিকিত্সার জন্য বিদেশ যাওয়াটাই শ্রেয় বলে তারা মনে করছেন।
সূত্র: ইত্তেফাক