বেরোবি ভিসির পিএসকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ

রংপুর অফিস:

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অফিসে আসায় তার পিএস আমিনুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের একাংশ।

বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বলেছেন, ‘পরিপত্র অনুযায়ী ভিসির মেয়াদ গতকাল শেষ হয়েছে। ভিসি নাই তো পিএস কিসের? আমরা তাকে স্বসম্মানে রুম থেকে বের হতে বলেছি। উনি বের হননি।’ একারনই ভিসির পিএসকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষকরা।

অধিকার সুরক্ষা পরিষদ ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ নামের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উপাচার্যের মেয়াদ শেষ। তাই তার পিএসও দায়িত্বে থাকতে পারবে না। এ কারণে তাকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক আসাদ মন্ডল বলেন, ‘আমাদের অনেকের জীবন শেষ করে দিয়েছে এই আমিনুর রহমান। ভিসি নাই, উনি এখনও কেন চেয়ারে?‘উনার লজ্জা নেই। আমিনুর নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএস দাবি করছেন। এটি লজ্জাজনক ও হাস্যকর।’

এ বিষয়ে পিএস আমিনুর বলেন, ‘আমার কক্ষে শিক্ষকরা এসেছেন। আমি বলেছি আপনাদের কথায় আমি অফিস ত্যাগ করতে পারি না। তাই আমি নির্দিষ্ট সময় অফিস করব। মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই।

২০১৭ সালের পয়লা জুন চার বছরের জন্য বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। তার চার বছরে মেয়াদের শেষ দিন ছিল সোমবার। তবে উপাচার্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি যোগ দেন ২০১৭ সালের ১৪ জুন।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেয়া নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে উপাচার্য হিসেবে কলিমউল্লাহর মেয়াদ প্রজ্ঞাপন দেয়ার দিন থেকে নাকি যোগদানের দিন থেকে ধরা হবে, তা পরিষ্কার করে বলা ছিল না।

তাকে সমর্থন দেয়া শিক্ষক-কর্মকর্তারা বলছেন, যোগদানের দিন থেকে চার বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে। আর বিপক্ষের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের দাবি, প্রজ্ঞাপনের দিন থেকেই মেয়াদ চার বছর।

এর আগে আজ মঙ্গলবার (১লা জুন) বেলা সাড়ে ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২নং গেটের সামনে এই মানবন্ধন করে কর্মচারী ইউনিয়ন। কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রশিদুল হকের সঞ্চালনায় ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ সভাপতি ও রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নুরুজ্জামান খান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মাহমুদুল হক, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার কিবরিয়া, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া,সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য ফয়সাল আজম ফাইন,স্টুডেন্ট রাইটস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ আহমেদ ।

মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ ও তার সহযোগীরা বিশ্ববিদ্যালয়কে অচলাবস্থায় পরিণত করেছেন। ভিসিসহ তার সংঘবন্ধ চক্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানকে ধ্বংস করেছেন। ইউজিসি এর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং করেননি। কোন সিদ্ধান্ত দেন নি। অবিলম্বে ভিসি সহ তার সহযোগী সকলের শান্তি ও অপসারণ দাবি করেন।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পে উপাচার্যের বিভিন্ন দুর্নীতির প্রমাণ পায় ইউজিসির তদন্ত কমিটি। তার বিরুদ্ধে অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক, আর্থিক ও নিয়োগসহ মোট ১১১টি অভিযোগ এখন তদন্ত করছে ইউজিসির আরেকটি তদন্ত কমিটি। এই কমিটির কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে গত ২৭ মে রিট করেন কলিমউল্লাহ। সেটির এখনও শুনানি হয়নি।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply