
অনলাইন ডেস্ক:
কাবুলে প্রেসিডেন্ট প্যালেসের দখল নিয়েছে তালেবান। সেখান থেকেই সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়েছে, আফগান যুদ্ধ শেষ। এবার নতুন সরকার গঠন হবে।
রোববার তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ নায়েম কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ ঘোষণা দেন।
মোহাম্মদ নায়েম বলেন, আফগানিস্তানের সব রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য তালেবান প্রস্তুত। আফগান রাজনৈতিক নেতাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষার নিশ্চয়তাও দেবে তালেবান।
তিনি আরো বলেন, তালেবান বিচ্ছিন্নভাবে থাকতে চায় না। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক চায়।
তালেবানের ওই মুখপাত্র জানান, কাউকে আক্রমণ করার জন্য আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে দেবে না তালেবান। তারা কারও ক্ষতি চায় না।
মোহাম্মদ নায়েম বলেন, তারা (তালেবান) মনে করে না যে বিদেশি শক্তি আফগানিস্তানে তাদের ব্যর্থ অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি করবে।
আফগানিস্তানের শাসনপদ্ধতি ও সরকার গঠনের বিষয়টি খুব শিগগির স্পষ্ট হবে বলে জানান মোহাম্মদ নায়েম।
তালেবানের ওই মুখপাত্র বলেন, শরিয়া আইনের ভেতরে তারা নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। একই কথা মতপ্রকাশের অধিকারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির দেশ ছেড়ে পালানোকে অপ্রত্যাশিত বলে অভিহিত করেন মোহাম্মদ নায়েম। তিনি বলেন, গনির ঘনিষ্ঠজনেরাও এমনটি আশা করেননি।
রোববার তালেবান কাবুল দখলের পর (১৫ আগস্ট) রাতেই পালিয়ে যান আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। নিজেই একটি টুইট করে জানিয়েছেন, লড়াই থামাতে এবং রক্তস্রোত এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, প্রতিবেশি দেশ তাজিকিস্তানে পালিয়েছেন গনি। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রেসিডেন্টের রাজপ্রাসাদে ঢুকে পড়ে তালেবান বাহিনী। প্রাসাদের মাথা থেকে আফগানিস্তানের পতাকা নামিয়ে দেওয়া হয়।
তালেবান মুখপাত্র জানান, দ্রুত পরবর্তী সরকার গঠন করা হবে। ইসলামিক আফগানিস্তান তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আশরাফ গনি পালিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরে মধ্যবর্তী সরকার গঠনের আলোচনা শুরু হয়েছিল। আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মাথায় রেখে সেই সরকার গঠনের জল্পনা চলছিল। তালেবানরা মধ্যবর্তী সরকারের পক্ষে মত দেবে কি না, তা অবশ্য এখনো চূড়ান্ত নয়।
তালেবান জানিয়েছে, দ্রুত তারা তাদের পরবর্তী পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত জানাবে। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, তালেবান নিজেরাই সরকার গড়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে।
এদিকে সোমবার (১৬ আগস্ট) সকালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক ডেকেছে। সকাল দশটায় বৈঠক শুরু হওয়ার কথা। আফগানিস্তান নিয়ে আলোচনা করতেই ওই বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে। এখনো পর্যন্ত ৬০টি দেশ আফগানিস্তানের দূতাবাস বন্ধ করে কর্মীদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
অ্যামেরিকা এবং জার্মানি আফগানিস্তানে নতুন করে সেনা পাঠিয়েছে। দূতাবাস কর্মীদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতেই সে কাজ করা হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। এই মুহূর্তে আফগান বিমানবন্দর ঘিরে রেখেছে মার্কিন সেনা।
এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের দায়িত্ব নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে অ্যামেরিকা। একের পর এক বিমানে দূতাবাস কর্মী এবং আফগান সহকর্মীদের তুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে রোববার রাতে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, আফগান কর্মীদের নিয়ে শেষ বিমান উড়ে গেছে। আপাতত কেবল মার্কিন কর্মীদেরই দেশে ফেরানো হবে। সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ
এম২৪নিউজ/আখতার