
অনলাইন ডেস্ক:
ওরা গোরখোদক। একটার পর একটা কবর খোঁড়াই তাদের কাজ। কবরে লাশ নামানোর কাজও তারাই করেন। লাশের ওপর বাঁশের চাটাই তারাই দেন। এরপর দুই হাত লম্বা বাঁশের টুকরাগুলো একটি একটি করে সাজিয়ে দেওয়া হয়। তারপর কোদাল দিয়ে মাটি দেওয়া শুরু হয়। এর মধ্যে স্বজনদের একজন একজন করে এক মুঠো মাটি দেয় কবরে। আস্তে আস্তে গোরখোদকরা কবরে মাটি ভরাট করার পর সমতল থেকে এক ফুট উচ্চতার মাটি বেশি করে স্থাপন করেন। এভাবেই গোরখোদকরা করোনায় মৃত ব্যক্তিদের দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন। এই চিত্র রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানের।
এখানকার ৮ নম্বর ব্লকটি নির্ধারিত করা হয়েছে করোনায় মৃতদের জন্য। গত বছর মার্চ মাসে সারা দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম দফায় খিলগাঁও তালতলা সরকারি কবরস্থানে মৃতদের দাফন শুরু হয়। কিন্তু স্থানসংকুলান না হওয়ায় ২৭ এপ্রিল থেকে রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন শুরু হয়। গতকাল শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত কবরস্থানে করোনায় মারা যাওয়া ১ হাজার ১৮৬টি লাশ দাফন হয়েছে।
গতকাল দুপুরে ৮ নম্বর ব্লকে দেখা যায়, আগে থেকেই প্রায় ১০০ কবর তৈরি করে রাখা হয়েছে। কবরস্থানে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশের পর দাফনের দায়িত্বে থাকা গোরখোদকরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ি থেকে স্ট্রেচারে করে সাদা কাফনে মোড়ানো মনিরুজ্জামানের (৫২) লাশ নামিয়ে আনেন স্বেচ্ছাসেবী ও মৃতের স্বজনরা। মনিরুজ্জামান গাজীপুরে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ছিলেন। করোনা আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালের আইসিইউতে তিনি চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান। মনিরুজ্জামানের লাশ গোরখোদকরা কবরে নামান। প্রধান গোরখোদক লিয়াকত আলী, শফিকুল ইসলাম, মানিক, হাসান, হূদয়, রফিকুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম একে একে বাঁশের চাটাই নামিয়ে দেন লাশের ওপর। এরপর বাঁশের লাঠি দেওয়া হয়। ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি তুলে কোদাল দিয়ে মাটি নামাতে থাকেন কবরে। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে মাটি দেওয়া সম্পন্ন হয়। এরপর আবারও ব্যস্ত হয়ে পড়েন পাশের খালি কবরে আরেক জনের দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে।
গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা মনিরুজ্জামানের দাফনের পরপর যাদের দাফন করা হয় তারা হলেন, লাভলী বেগম (৩৫), জাহানারা বেগম (৭৫), পিডিবির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আজিজুর রহমান (৭৩) ও রিনা আক্তার (৫১)। সূত্র: ইত্তেফাক অনলাইন
এম২৪নিউজ/আখতার