করোনা সন্দেহে তরুণীর লাশ রাস্তায় ফেলল ট্রাকচালক, নদীতে ফেললো অ্যাম্বুলেন্স চালক!

নিউজ ডেস্ক:

করোনা সন্দেহে এক তরুণীর লাশ নিয়ে ঈদের দিন বিপাকে পড়তে হয় তার বৃদ্ধ বাবাকে। ঢাকা থেকে লালমনিরহাট যাওয়ার পথে ট্রাকে তরুণীর মৃত্যু হলে করোনা সন্দেহে তার লাশ রংপুরে রাস্তায় ফেলে যায় ট্রাকচালক। পরবর্তীতে সেই লাশ দাফনের জন্য আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের অ্যাম্বুলেন্স কে দেয়া হলে সেই চালক লাশ ফেলে দেয় নদীতে। দিনভর অমানবিক ও লোমহর্ষক এক ঘটনাবলীর শেষে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নিরাপত্তা দিয়ে সেই তরুণের লাশ দাফন করে।

মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে রংপুরের তাজহাট থানায় এসে লাশ শনাক্ত করেন মৌসুমী আক্তারের বাবা গোলাম মোস্তফা। পরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ গ্রামের বাড়িতে নেয়ার সময় মোবাইল ফোনে মেয়ের বাবাকে লাশ দাফনে বাধা দেন পাটগ্রামের বুড়িমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিশাত হোসেন চৌধুরী। এ সময় তিনি তার মেয়ে ও পুরো পরিবারকে পুড়ে মারারও হুমকি দেন বলে জানান গোলাম মোস্তফা। একই সঙ্গে গুচ্ছগ্রামে বসবাসরত তার স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ারও অভিযোগ করেন ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

অবশেষে চেয়ারম্যানের হুমকিতে তিনি নিরুপায় হয়ে মেয়ের লাশ আঞ্জুমান মফিজুলের সাহায্য নিয়ে দাফনের সিদ্ধান্ত নেন গোলাম মোস্তফা। দাফনের জন্য পাঁচ হাজার টাকাও দেন তাদের। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় কিছুদূর যেতেই লাশ ঠিকঠাক মতো দাফনের আশ্বাস দিয়ে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। তবে লাশটি দাফন না করে তা তিস্তা নদীতে ফেলে দেয়া হয়।

এর একদিন পর স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে রবিবার রাতে উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্দ্ধন গ্রামে তিস্তা নদী থেকে সরকারি ব্যাগে মোড়ানো অজ্ঞাত লাশটি উদ্ধার করে আদিতমারী থানা পুলিশ। সোমবার ঈদের নামাজ শেষে আদিতমারী থানা পুলিশ জানাজা শেষে আদিতমারী কেন্দ্রীয় কবরস্থানে লাশটির দাফনের প্রস্তুতি নেয়। খবর পেয়ে পরিচয় শনাক্ত করেন মৃতের বাবা গোলাম মোস্তফা।

আদিতমারী থানা পুলিশ জানায়, থানা ক্যাম্পাসে লাশের জানাজা সম্পন্ন করে আদিতমারী কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অবশেষে আদিতমারী ও পাটগ্রাম এই দুই থানা পুলিশের উপস্থিতিতে তরুণীর লাশ গ্রামেই দাফন করা হয়েছে।

আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, একজন ইউপি চেয়ারম্যানের হুমকিতে লাশ দাফন হবে না এটা মিনে নিতে পারেননি পুলিশ সুপার। তার নির্দেশে আদিতমারী ও পাটগ্রাম থানা পুলিশের উপস্থিতিতে লাশ দাফন করা হয়েছে।

এদিকে বুড়িমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাতের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ফেন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: ইত্তেফাক অনলাইন।