গাইবান্ধায় যুবলীগ নেতা হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সহ গ্রেফতার ৩

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর:

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে যুবলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৩। মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) সুন্দরগজ্ঞ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের রাঘবচর ও রংপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- সুন্দরগঞ্জর পূর্ব শিবরাম গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে জয়নাল মিয়া(৩৪), পশ্চিম বৈদ্যনাথ গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে মারুফ মিয়া (২৫) এবং একই এলাকার মৃত মুসলিম বেপারীর ছেলে মোজাম্মেল হক (৫০)।

নিহত জাহিদুল ইসলাম সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সোনারায় ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।একই ইউনিয়নের পশ্চিম বৈদ্যনাথ গ্রামের আবুল হোসেন মেম্বারের ছেলে। বুধবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান রংপুর র‌্যাব-১৩ এর অধিনায়ক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম।

প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানিয়েছে,গ্রেফতার মারুফ মিয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জাহিদুল ইসলামকে হত্যার ছক তৈরি করেন। এরই প্রেক্ষিতে রোববার (১২ নভেম্বর) রাতে জাহিদুলকে শাখামারা ব্রিজের ওপর নিয়ে আসেন মারুফ। তারই পরিকল্পনা অনুযায়ী ওত পেতে থাকা তার সহযোগীরা বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও হাত-পায়ের রগ কেটে জাহিদুলকে গুরুতর জখম করেন।এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১৩ নভেম্বর) দিনগত রাত তিনটার দিকে মারা যায়।গ্রেফতারকৃত আসামিরা সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু নাশকতার সঙ্গে জড়িত।এদের মধ্যে মারুফ মিয়া সোনারায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি, জয়নাল মিয়া সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং মোজাম্মেল হক একজন জামায়াত ইসলামের কর্মী।গ্রেফতারদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

প্রসঙ্গত, গত রোববার (১২ নভেম্বর)রাত সাড়ে ১১ টার দিকে মোটর সাইকেল যোগে যুবলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম ও কবির মিয়া বামনডাঙ্গা থেকে সুন্দরগঞ্জের বাড়িতে ফিরছিলেন।পথে শাখা মারা ব্রীজ এলাকায় পৌঁছালে কতিপয় দুর্বৃত্ত রশি টেনে মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে। এসময় ধারালো ছুরি দিয়ে জাহিদুলের হাত-পায়ের রগ কেটে দেয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে। সঙ্গে থাকা অপর নেতা কবিরকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে। আহতদের চিৎকারে স্থানীয়রা দৌড়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় জাহিদুল ও কবিরকে উদ্ধার করে প্রথমে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।অবস্থার অবনতি হলে জাহিদুল ইসলামকে চিকিৎসক রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় রাত পৌনে তিনটার দিকে রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আজমিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply