
রংপুর অফিস:
গাইবান্ধার সদর উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য ও শিক্ষক মোঃ আব্দুররউফ কে পিটিয়ে ও কুড়াল দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা কারী আরিফ মিয়া (৩৩) কে পঞ্চগড় জেলার বোদা থানার পাঁচপীর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে র্যাব ১৩ রংপুর। গতকাল ১৩ নভেম্বর রাতে র্যাব-১৩ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করে। র্যাব হত্যাকান্ডে ব্যবহত কুড়ালটি উদ্ধার করেছে।
মাহমুদ বশির আহমেদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট সহকারি পরিচালক (মিডিয়া) সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক প্রেস বার্তায় জানান, গত ১১ নভেম্বর ২০২১ তারিখে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মোঃ আব্দুর রউফ গাইবান্ধা জেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের সদস্য নির্বাচিত হন। এর পর ১২ নভেম্বর ২০২১ তারিখ রাত ১০.৩০ কতিপয় দুষ্কৃতিকারী তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। এর প্রেক্ষিতে গাইবান্ধা জেলার সদর থানায় মামলা নং-২৩ তারিখ ১৩/১১/২০২১ধারা-১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩০২/ ৫০৬/৩৪ পেনাল কোড ধারায় একটি মামলা রুজু হয়।
ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের তৈরি হয়। এরই প্রেক্ষিতে র্যাব ঘটনায় ছায়া তদন্ত শুরু করে ও জড়িতদের গ্রেফপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৩ নভেম্বর রাতে র্যাব-১৩ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পঞ্চগড় জেলার বোদা থানার পাঁচপীর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গাইবান্ধায় নির্বাচনী সহিংসতায় মেম্বার হত্যা মামলার প্রধান আসামী মোঃ আরিফ মিয়া(৩৩), পিতা- মোঃ ছাইপার রহমান, সাং- হাট লক্ষীপুর, থানা- গাইবান্ধা সদর, জেলা-গাইবান্ধা’কে গ্রেফতার করে।
তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী মৃত মেম্বার আব্দুর রউফকে হত্যার ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে এবং হত্যার সম্পূর্ণ ঘটনা সে বর্ণনা করে। গত ১২ নভেম্বর ২০২১ তারিখে রাতে আনুমানিক ১০.৩০ ঘটিকায় মেম্বর আব্দুর রউফ তার বন্ধুকে সাথে নিয়ে হাট লক্ষীপুর বাজার হতে বাড়ী ফিরছিলেন।
পথিমধ্যে রাস্তার মাঝে নির্মাণনধীন ব্রিজ এ উঠার সময় আব্দুর রউফ মোটরসাইকেল থেকে নেমে যান এবং তার বন্ধু মোটরসাইকেল নিয়ে ব্রিজটি পার হয়ে যান। সেখানে ওৎ পেতে বসে ছিল ঘাতক মোঃ আরিফ মিয়া এবং তার সঙ্গী সাথীরা। ব্রিজের মাঝামাঝি আসার পর মোঃ আরিফ মিয়া এবং তার সঙ্গী সাথীরা আব্দুর রউফ এর পথ রোধ করে এবং অতর্কিতভাবে হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে।
প্রথম আঘাতের পর সে মাটিতে পরে যায় এবং তারা মোঃ আব্দুর রউফকে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে। মোঃ আব্দুর রউফ এর চিৎকার শুনে তার বন্ধু মোটরসাইকেল ফেলে দৌড়ে এলে মোঃ আরিফ ও তার সঙ্গী সাথীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তার বন্ধু স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় রাত ১১টায় গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গ্রেফতার কৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন এবং অন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামীদের গ্রেফতারের জন্য র্যাবের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এম২৪নিউজ/আখতার