ঘর পুড়ে যাওয়া বস্তিবাসীর চোখে মুখে শুধুই অন্ধকারের ছাপ

নিউজ ডেস্ক:

রূপনগর শিয়ালবাড়ী বস্তির চারদিকে পোড়া ধ্বংসস্তূপ। ফাল্গুনের দক্ষিণা হাওয়ায় এখন শুধুই পোড়া গন্ধ। পুড়ে যাওয়া ঘরের মধ্যে অবশিষ্ট কিছু পাওয়া যায় কি না তার সন্ধানও করছেন অনেকে। ঘর পুড়ে যাওয়া বস্তিবাসীর চোখে মুখে শুধুই অন্ধকারের ছাপ।

নতুন করে ঘর ভাড়া নিতে গেলে যে জামানতের দরকার তা-ও নেই অনেকের কাছে। পুড়ে যাওয়া স্বপ্ন আবার কোনদিন বাস্তবে রূপ নেবে কি না, সেই প্রশ্নই এখন তাদের।

গত বুধবার রূপনগর শিয়ালবাড়ী বস্তির ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সহস্রাধিক ঘর পুড়ে যাওয়ার পর বাস্তির ২ হাজার ৬০০ পরিবার এখন স্থানীয় হাইস্কুল ও ইসলামীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, ত্রাণের জন্য লম্বা লাইন ধরে অপেক্ষায় আছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। ট্রাক থেকে নামিয়ে চালের বস্তা নেওয়া হচ্ছে বিদ্যালয়ের মাঠে। পাশেই চেয়ার পেতে বসে আছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। সেখানে আছেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংসদ সদস্যের লোকজনও।

এ সময় সেখানে উপস্থিত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মমিন উদ্দিন বলেন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ৬০০ পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। সরকার থেকে প্রতি পরিবারের জন্য ৩০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আপাতত তাদের তিন বেলা খাওয়া ও স্কুলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রূপনগর থানার কাছের এই বস্তির উত্তর দিকের অংশে ২০১৯ সালের আগস্টে আরো একবার আগুন লেগেছিল। সেই সময়ের আগুনেও বস্তির সহস্রাধিক ঘর পুড়ে গিয়েছিল। ঐ আগুনে পুড়ে যাওয়ার দেড় মাসের মধ্যে আবারও নতুন করে গড়ে ওঠা ঘরগুলো ভেঙ্গে দেওয়া হয়।

ঘর ভাঙ্গার পর সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। এবারের আগুনে উত্তর পাশে গড়ে ওঠা নতুন ঘরগুলোর ক্ষতি না হলেও বস্তির মধ্যভাগ ও দক্ষিণ পাশের প্রায় সব ঘর পুড়ে গেছে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা বলেছেন, বস্তিবাসীর জন্য যতো ধরনের সহযোগিতা দরকার আমরা করব। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে স্থায়ী সমাধানের কথা বলেছেন ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

সূত্র: ইত্তেফাক অনলাইন।