
রংপুর অফিস:
কুড়িগ্রামের এক নিভৃত পল্লীতে চতুর্থ বিয়েতে মত না দেয়ায় বাবা পেয়ার উদ্দিনকে (৫৫) ধারালো ছুড়ি পেটে ঢুকিয়ে দিয়ে হত্যা করেছে পাষন্ড ছেলে। এ ঘটনায় থানাপুলিশ হত্যা কান্ডে ব্যবহ্রত ছোড়াটি উদ্ধার সহ ছেলে আব্দুল জলিলের (২৬) কে গ্রেপ্তার করেছে।
জেলার রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নে এ ঘটনাটি ঘটেছে। রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজু সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
রাজার হাট থানা পুলিশ জানায়, উপজেলার খিতাব খাঁ সলিম বাজার গ্রামের পেয়ার উদ্দিনের ছেলে আব্দুল জলিল এর আগে তিনটি বিয়ে করেন। এক এক করে তিন বউয়ে জলিলকে ছেড়ে চলে যায়। এরপর থেকে জলিল প্রায় দিন তার বাবাকে চতুর্থ বিয়ের কথা বলেন এতে তার বাবা দ্বিমত পোষণ করেন।
গত রবিবার ইফতারীর পরে আব্দুল জলিল আবারো বিয়ের কথা বলেন এবং তার বাবা দ্বিমত করলে দুইজনের মধ্যে বাকবিতন্ডা বাধে।
একপর্যায়ে পাষান্ড ছেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পেয়ার উদ্দিনের পেটের বামপার্শে ছোড়া ঢুকিয়ে দেয়।আহত স্বামীকে বাঁচাতে পেয়ার উদ্দিনের স্ত্রী জুলেখা খাতুন (৪৫) এগিয়ে আসলে জলিল মা ও বাবাকে গুরুত্বর আহত করেন।
পরে স্থানীয় লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে ওই রাতেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সন্ধায় পেয়ার উদ্দিনের মৃত্যু হয়।
বর্তমানে স্ত্রী জুলেখা খাতুনও (৪৫) আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোমবার গভীর রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘাতক আব্দুল জলিলকে কামার পাড়া এলাকা থেকে গ্রপ্তার করে। মৃত্যুর লাশ রংপুর মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের নিকট হস্থান্তর করা হয়েছে।
রাজারহাট থানা সূত্রে জানাগেছে, রবিবার রাতের এ ঘটনায় গতকাল সোমবার থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজারহাট থানার উপ পরিদর্শক এসআই অনিল কুমার বলেন, আসামীকে গতকাল মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম জেলার চিপ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট বিচারক সুমন মিয়ার আমলী আদালতে তোলা হলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠান।
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজু সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন,বিষয়টি আরো খতিয়েতদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এম২৪নিউজ/আখতার