তরুণ-যুবকদের মাধ্যমে বেশি ছড়াচ্ছে করোনা : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

অনলাইন ডেস্ক:

দিনে দিনে ধরন পাল্টাচ্ছে মহামারি করোনাভাইরাস। প্রথমদিকে ভাইরাসটিতে বয়স্ক মানুষজন বেশি আক্রান্ত হলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে শিশু ও তরুণ বয়সীরাই এতে বেশি সংক্রমিত হচ্ছে। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়েও উপসর্গহীন বা কম উপসর্গ নিয়ে এসব বয়সী মানুষ অসাবধনাবশত অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস।

মঙ্গলবার উদ্বেগ প্রকাশ করে এসব তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

সংস্থাটির পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক তাকেশি কাসাই জানান, করোনা মহামারি পাল্টে যাচ্ছে। ২০, ৩০ এবং ৪০ বছরের কোটায় থাকা লোকজন ক্রমবর্ধমান হারে বিস্তার ছড়িয়ে দিচ্ছেন। অনেকেই জানেন না যে, তারা করোনায় আক্রান্ত। এটি করোনা বিস্তারের ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে তোলে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের করোনা আক্রান্ত ৬০ লাখ মানুষের তথ্য নিয়ে ডব্লিউএইচও’র চালানো গবেষণায় দেখা গেছে, শূন্য থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের মাত্রা ০.৩ থেকে বেড়ে ২.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের আক্রান্তের হার ০.৮ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৬ শতাংশে। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে সংক্রমণের মাত্রা ৪.৫ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৫ শতাংশ।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে এই ভাইরাসের উৎপত্তি হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত হয়েছেন ২ কোটি ২ লাখের বেশি মানুষ এবং মারা গেছেন ৭ লাখ ৭০ হাজারের বেশি।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের নতুন উত্থান দেখা দেয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফের বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিকে তছনছ করে দেয়া এই ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারে বিভিন্ন কোম্পানি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

করোনার নতুন করে উত্থানের খবর ভিয়েতনাম, নিউজিল্যান্ডসহ এমন কিছু দেশ থেকে এসেছে, যারা প্রথম দফায় ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছিল বলে মনে করা হয়। আগ্রাসী পরীক্ষা এবং আইসোলেশন ব্যবস্থার কারণে তিন মাস পর ভিয়েতনামে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ১০২ দিন পর নিউজিল্যান্ডেও স্থানীয়ভাবে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।

তাকেশি কাসাই বলেন, আমরা যা পর্যবেক্ষণ করছি তা শুধু পুনরুত্থানই নয়। বরং আমরা বিশ্বাস করি- এটি এক ধরনের সংকেত যে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মহামারি নতুন ধাপে প্রবেশ করছে।

তিনি বলেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং মোকাবিলা কার্যক্রমে সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশগুলো জীবন ও অর্থনীতির ওপর এর আঘাত হ্রাস করতে সক্ষম। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের জিনগত রূপান্তর ঘটলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভাইরাসটিকে ‘অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল’ হিসেবে দেখছে।

সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ।