
রংপুর অফিস:
ভারত থেকে আসা পানির ঢলে ও ভারী বর্ষনে তিস্তায় ডালিয়া পয়েন্টে বিপদ সীমার ৬০ সেন্টিমিটা উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। পানি বাড়ায় ভারতের তিস্তার দোমহনী পয়েন্টে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।
নীলফামারী ও লালমনিরহাটে বন্যা দেখা দিয়েছে। বুধবার(২০ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে থেকেই হু-হু করে বেড়ে চলছে পানি।এখন অবধি বেড়েই চলছে পানি। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে, চুলা জ্বলছে না সেসব বাড়ীতে।
এদিকে নীলফামারীর বুধবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৬টার পর থেকে ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশাচাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারীসহ ১০টি ইউনিয়ন এলাকার ২২টি গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন প্রায় ১০ হাজার পরিবারের ৪০ হাজার মানুষ। চরাঞ্চলের এসব বাড়িঘরে ৫ থেকে ৭ ফুট পানি উঠেছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে এসব এলাকার রাস্তা-ঘাট। ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের তিস্তাপাড়ের মমিকুল ইসলাম(৩৫) জানান , কালীগঞ্জ তিস্তার পাড়ের বাঁধে ভাঙ্গনের কবলে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঝাড়সিংহেশ্বর ও ছাতনাই কলোনী বন্যা তলিয়ে যাওয়ার আশংঙ্কা রয়েছে।আতংঙ্কে রয়েছে এলাকাবাসী। এছাড়াও টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড সংলগ্ন স্বপন বাঁধে ও অপরদিকে ওই ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ী গ্রামের সেচ্ছাসেবী বাঁধের ভাঙ্গনের কবলে রয়েছে।
টেপাখড়িবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হক জানান, পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। তিস্তা বাজার, তেলিরবাজার, দোলাপাড়া, চরখড়িবাড়ি এলাকা তলিয়ে গেছে। চরের ফসলের জমি সব পানির নিচে। ঘরবাড়ি ছেড়ে মানুষজন গবাদিপশুসহ নিরাপদে সরে গেছে।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় ফ্লাড বাইপাস পানির তোরে ভেঙ্গে গেছে।
পাউবোর ডালিয়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদ্দৌলা প্রিন্স বলেন, উজানে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তিস্তা পয়েন্টে এ মৌসুমের সর্বোচ্চ পানিপ্রবাহ। এ জন্য আমরা তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়ে নদীর পানিপ্রবাহ অব্যাহত রেখেছি।
এম২৪নিউজ/আখতার