ফরিদপরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ১১, মৃত স্বজনের টাকা আনতে গিয়ে লাশ হলেন ওরা

অনলাইন ডেস্ক:

গত বছর মারা যাওয়া এক আত্মীয়ের অ্যাকাউন্ট ছিল ঢাকার একটি ব্যাংকে। সেই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার জন্য মাইক্রোবাসে ঢাকায় যাচ্ছিলেন পরিবারের সব সদস্য। কিন্তু পথেই সব নিঃশেষ হয়ে গেল। একটি ট্রাক কেড়ে নিল মাইক্রোতে থাকা নয়জনের প্রাণ।

রোববার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরে মধুখালী উপজেলার মাঝকান্দি এলাকায়। একই দিন ভোরে ভাঙ্গা উপজেলার বিশ্বরোডে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই শিক্ষার্থী নিহত হন।

মধুখালীতে নিহত নয়জনের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন। এর মধ্যে দুজন ঘটনাস্থলে নিহত হন। চারজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বাকি তিনজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এক পরিবারের নিহত ছয়জন হলেন- ২০১৯ সালের নভেম্বরে ঢাকার আশুলিয়াতে প্রতিপক্ষের ধরিয়ে দেয়া আগুনে নিহত তৃতীয় লিঙ্গের সদস্য মেহের ওরফে কাজলীর মা মিয়াজান বিবি, বোন আমেনা বেগম, স্ত্রী কুটি বিবি, মেয়ে মরিয়ম, জামাই জুয়েল রানা ও মরিয়ম-জুয়েলের চার মাসের শিশু মুজাহিদ। অপর তিনজন হলেন- আইনজীবী আব্বাস উদ্দিন, মাতুব্বর নজরুল ইসলাম ও গাড়িচালক আল আমিন।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন কুদ্দুছ, নূরুন্নাহার, আলামিন, রাশিদা ও আবদুল্লাহ। নিহতদের বাড়ি ঝিনাইদহের মহেষপুর উপজেলার কাজীর বেরিয়া ইউনিয়নের সামন্তখোলা গ্রামে।

ফরিদপুরে তাদের মরদেহ বুঝে নিতে এসেছেন কাজীর বেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএন সেলিম রেজা। সামন্তখোলা গ্রামটি কাজীর বেড়া ইউনিয়নে।

ইউপি চেয়ারম্যান বিএন সেলিম রেজা বলেন, আমার ইউনিয়নের জন্য এটি বড় ধরনের ঘটনা। একসঙ্গে এত লাশ আগে দেখিনি। জানি না লাশগুলো গ্রামে নিয়ে যাওয়ার পর কি পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। পুরো ইউনিয়নে শোকের ছায়া নেমেছে।

তিনি বলেন, নিহত জুয়েল রানার এক আত্মীয় গত বছর মারা গেছেন। ঢাকার একটি ব্যাংকে তার অ্যাকাউন্ট ছিল। ওই অ্যাকাউন্টের টাকা তোলার জন্য পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন জুয়েল ও তার পরিবারের সদস্যরা। পথেই ঘটে দুর্ঘটনা। তাদের সঙ্গে একজন আইনজীবীও ঢাকায় যাচ্ছিলেন, তিনিও মারা গেছেন।

মধুখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা টিটোব সিকদার বলেন, আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. সাইফুর রহমান বলেন, হাসপাতালে আনার পর চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো তিনজন মারা যান। এছাড়া ঘটনাস্থলে দুজন মারা যান।

করিমপুর হাইওয়ে থানার এসআই মো. কাওসার হোসেন বলেন, ঝিনাইদহ থেকে মাইক্রোবাসটি ঢাকায় যাচ্ছিল। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মাঝকান্দি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত থেকে আসা মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দেয় একটি ট্রাক। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই এক নারী ও এক পুরুষ নিহত হন। আহত হন মাইক্রোবাসের ১২ যাত্রী। তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে আরো সাতজন মারা যান।

ফরিদপুরের ডিসি অতুল সরকার বলেন, নিহত প্রত্যেককে ১৫ হাজার করে টাকা দেয়া হবে। অন্যদের আর্থিক পরিস্থিতি দেখে সহযোগিতা করা হবে। সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply