
রংপুর অফিস:
রংপুর বিভাগে মাঘের শেষে শীতের আমেজ না কাটতেই ঝড়ো হাওয়ার সাথে গুড়ি-গুড়ি বৃষ্টিতে নাকাল হয়েপড়েছে জনজীবন হয়ে পড়েছে।
আজ শুক্রবার ভোর রাত হতে শুরু হয়েছে এই বৃষ্টি পাত। রংপুর আবহাওয়া অফিস বলেছে গত ১৬ ঘন্টায় এখানে ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাশের আদ্রতা ছিল ৬৪ শতাংশ। বিভাগে জুড়ে সারাদিন সূর্যের আলোর দেখা মেলেনি কোথাও। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও বাতাস বয়ে যাচ্ছে রংপুর বিভাগের পার্শ্ববর্তী জেলা গুলোতে।
শীতের প্রকোপ আর করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখীর সময় হঠাৎ এই বৃষ্টি আর বাতাস। এতে নাকাল হয়ে পড়েছে মানুষ সহ প্রানী কুলের জনজীবন।
গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই মেঘলা আকাশ আর ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় উত্তরের প্রকৃতি। কুয়াশা কাটিয়ে রাত তিন টারদিকে শুরু হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর দমকা বাতাশ। এতে সকালে ঘুমথেকে ওঠে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হয়। বৃষ্টির সঙ্গে হিমেল ঠান্ডা বাতাসের মাদকতায় ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভাগের খেটে খাওয়া শ্রমজীবী সহ নিম্ন আয়ের সাধারন মানুষ।
রংপুরের আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে এই অবস্থা থাকবে আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত থাকার সম্ভবনা রয়েছে।
রংপুর নগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে ছুটির দিনে বৃষ্টিতে রাস্তা ঘাট যেন ফাঁকা পড়ে আছে। জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বাইরে আসা মানুষের মাথায় ছাতা আর শরীরে উঠছে মোটা কাপড়। বৃষ্টি আর বাতাসের সঙ্গে জরুরি প্রয়োজন সারতে একেবারে জুবুথুবু হয়ে পড়েছে মানুষ।
নগরীর মুলাটোল এলাকায় ছাতা নিয়ে বাইরে বের হওয়া আলঙ্গির,জাহাঙ্গির বলেন, ‘ভোর থেকে বৃষ্টি আর বাতাসে বাইরে বের হওয়া খুব কষ্টকর, তারপরও বের হয়েছি কাঁচাবার করতে।
পায়রা চত্বরে কথা হয় মোশারফ নামে এক পথযাত্রী বলেন, বাইরে রিকশা-অটোভ্যান কিছুই নেই। কষ্ট করে হেঁটে যাচ্ছি। অসময়ে এই বৃষ্টিতে পরিবারের অনেকে ঠান্ডা জনিত রোগে ভুগছেন তাদের জন্য ঔষুধ নিতে বেরিয়েছি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের তুলনায় রংপুর বিভাগের উপজেলা‘র পল্লী অঞ্চল গুলোতে গবাদি পশু শিশু-বয়োবৃদ্ধদের নিয়ে অনেকটা দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিস সুত্রে জানাগেছে, আজ শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রংপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, দিনাজপুরে ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদফতর আরো জানায়, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিত অংশ বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে রংপুর সহ অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়া সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি পাত হতে পারে। এ ছাড়া আজ শনিবার মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে বলেও আবহাওয়া বার্তায় জানা যায়।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিত অংশ বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে এই বৃষ্টি ও বাতাস হচ্ছে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সঙ্গে ঠান্ডা বাতাস থাকবে এই অঞ্চলে। এটি আজ এবং আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত স্থায়ী থাকবে। ক্রমে ক্রমে বাতাস আর হালকা ঝিরিঝিরি বৃষ্টি কমে আবহাওয়ার উন্নতি হবে। রাতে কুয়াশা অনেকটা কমে আসলেও ঠান্ডা আরও তীব্র হবে রংপুর অঞ্চলে।
এম২৪নিউজ/আখতার