
স্টাফ রিপোর্টার:
মিঠাপুকুরে সাড়ে চার লাখ টাকার বিনিময়ে এক ইউপি সদস্য প্রার্থীকে জেতানোর পরিকল্পনার অডিও ফাঁসের ঘটনায় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। সেইসাথে পীরগাছা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শোয়েব সিদ্দিকীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে সিনিয়র সহকারী সচিব আব্দুল্যাহ্ আল মোতাহ্সিম স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
এছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা মিঠাপুকুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গোলাম রব্বানিকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার স্থলে দ্বায়িত্ব পালন করবেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। এ নির্বাচনে বালারহাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য প্রার্থী রফিকুল ইসলামকে জিতিয়ে দেয়ার জন্য সাড়ে চার লাখ টাকার চুক্তি করেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল হান্নান।
ইউপি সদস্য প্রার্থীকে জিতিয়ে দেওয়ার অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই অডিও ক্লিপের কথোপকথনে শোনা যায়, রফিকুল ইসলাম নামে ওই প্রার্থীকে জয়ী করতে ভোটকেন্দ্র থেকে প্রতিপক্ষের লোকজনকে বের করে দেওয়া এবং ভোটের আগেই অন্তত ৩শ’ ব্যালট পেপার সরবরাহের বিনিময়ে টাকা চেয়েছেন নির্বাচন কর্মকর্তা।
এ সময় আবদুল হান্নান ওই ইউপি সদস্যকে বোঝান, যেহেতু নির্বাচন করতে গেলে প্রতিদিনই ১০ হাজার করে টাকা ব্যয় হবে তাতে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ হবে। তাতে নির্বাচিত হওয়ার কোনো গ্যারান্টিও নেই, তাই সেটি না করে, তার সাথে পাঁচ লাখ টাকার চুক্তি করলে তিনি যেভাবেই হোক জিতিয়ে দিবেন। এক্ষেত্রে তিনি গ্যারান্টি হিসেবে জেতাতে না পারলে টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ওই প্রার্থীকে।
নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় তাকে জিতিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।
এ ব্যাপারে বালারহাট ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ফুটবল প্রতীকের সদস্য পদপ্রার্থী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পুরো ঘটনাটি স্বীকার করে বলেন, এলাকার একজন শিক্ষকের মাধ্যমে দুই দফায় নির্বাচন কর্মকর্তাকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা প্রদান করেছেন তিনি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন , আমার বিরুদ্ধে অডিও ক্লিপ তৈরী করে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, অডিও সংযুক্ত করে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নানকে প্রত্যাহার এবং তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য দুপুরে আমরা একটি চিঠি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন সচিবালয়ে প্রেরণ করি। পরে বিকালে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করার সিদ্ধান্ত হয়।
এম২৪নিউজ/আখতার