রংপুর অঞ্চলে হঠাৎ অস্থির চালের বাজার, বেকায়দায় নিম্ন আয়ের মানুষ

রংপুর অফিস:

রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবার পরেও গত ৭দিন ধরে আকস্মিক ভাবে চালের দাম বেড়ে গেছে। পাইকারী বাজারে কেজি প্রতি চালের প্রকার ভেদে ২ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে অন্যদিকে খুচরা বাজারে বেড়েছে ৪ থেকে ৫ টাকা কেজি দরে। এদিকে আকস্মিক ভাবে চালের দাম বৃদ্ধির কারন হিসেবে দেশের ১০ সিন্ডিকেট চালের আড়তদার ব্যবসায়ীকে দায়ি করেছে পাইকারী চাল ব্যবসায়ীরা। তারা হাজার হাজার মেট্রিক টন চাল গুদাম জাত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চালের বাজার অস্থির করে তুলেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্ত ভোগিরা।

আজ রোববার বিকেলে রংপুরের অন্যতম বৃহৎ চালের মোকাম রংপুর নগরীর মাহিগঞ্জ এলাকায় পাইকারী চাল ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মিনিকেট চাল প্রতি কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৪ টাকা কেজিতে। অন্যদিকে হাইব্রিড মোটা চাল ৩৬ টাকা কেজি থেবে বেড়ে ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গুটি স্বর্না চাল কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে ৪৪ টাকা বিআর ২৮চাউল ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪৮ টাকা এবং বিআর ২৯ চাল ৪১ টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাহিগঞ্জ আড়তদার চাল ব্যবসায়ী সমিতির সহ সম্পাদক রিপন জানান কোন কারন ছাড়াই চালের দাম হঠাৎ করে দুদিন ধরে কেজি প্রতি ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চাউল ব্যবসায়ীরা বলেন চালের কোন সংকট নেই।

রংপুর পাইকারী চাল ব্যবসায়ী সমিতির সহ সভাপতি তুহিন চৌধুরী বলেছেন, বড় বড় অবস্থাপন্ন কৃষক এবার চাল বিক্রি করছেনা তারা অধিক লাভের আশায় ষ্টক করে রেখেছে। বরং তারা ধান কিনছে ক্ষদ্র ও প্রান্তি চাষিদের কাছে। মোটা চাল সরকার ৪০ টাকা দরে কিনছে সে কারনে তারা আরো বেশী লাভের আশায় চাল বিক্রি করছেনা। উত্তরাঞ্চল সহ দেশের ১০ চাল ব্যবসায়ী ব্যাংক থেকে কোটি কোটি ঋন নিয়ে তারা সিন্ডিকেট করে হাজার হাজার টন চাল কিনে গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারে চালের দাম বাড়িয়েছে। বাস্তবে চালের কোন সংকট নেই এমনকি তাদের পাইকারী মোকামে চাল কেনার খদ্দের নেই। প্রতিদিন যেখানে ৫/৭ ট্রাক চাল বিক্রি হতো এখন ১ ট্রাক চাল বিক্রি করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে চালের ব্যবসা করে ভরা মৌসুমে এভাবে চালের দাম কখনও বাড়েনি বলে জানান তিনি।

রংপুর নগরীর মাহিগঞ্জ চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন জানান, সরকারের কাছে ঋন নিয়ে দেশের শীর্ষ ১০ চাল ব্যবসায়ী চাল কিনে মজুদের পাহাড় গড়ে তুলেছে তাদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান শুরু করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি।তিনি আরো জানান এবার দেশে যে পরিমান চাল উৎপাদন হয়েওছে তা দেশের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকার কথা সেখানে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বিদেশ থেকে চাল আমদানি করে কোটি কোটি মুনাফা লোভী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

রংপুর অঞ্চলের কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাহবুব রহমান বলেন,গত বোরো মৌসুমে রংপুর অঞ্চলের পাচ জেলায় ৫ লক্ষ ৩ হাজার ৫১৭হেক্টও জমিতে রোপা আমন চাষ করে কৃষকরা ২১লক্ষ ৫৪ হাজার ২৮৬মেট্রিক টন চাউল উৎপাদন করেছেন।যা চাহিদার চেয়েও বেশি ফলন হয়েছে ৯৯হাজার ৬০২মেট্রিকটন চাল।

রংপুরের জেলাপ্রশাসক মোঃআসিফ আহসান জানান, যে পরিমান ধানও চাল উৎপাদন হয়েছে তা রংপুর অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকার কথা।এই কৃত্রিম চাউলের সংকট সৃষ্টি কারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মাঠপর্যায়ে অভিযান চালিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply