
নিউজ ডেস্ক:
সমবায় সমিতির নাম ভাঙিয়ে লোভনীয় অফার দিয়ে গ্রামের সহজ-সরল নারীদের কাছ থেকে ছয় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া আদম সুফী (৪৫) প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৩।
বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকায় তার আত্মীয়ের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে র্যাব-১৩ রংপুর সদর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান।
মেজর আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, গত নভেম্বর মাস থেকে মামুন হাসান সহযোগীদের নিয়ে ডোমার থানার সাহাপাড়ায় সাবেক কুইন্স কিন্ডারগার্টেনে ঘর ভাড়া নিয়ে ডোমার বাজার ভোগ্যপণ্য সমবায় সমিতি নামে ব্যানার লাগিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। সেখানের সহজ-সরল শতাধিক নারীদের টার্গেট করে সমবায় সমিতির মাধ্যমে লোভনীয় অফার দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া শুরু করেন মামুন হাসান ও তার সহযোগীরা।
তিনি বলেন, ২০২০ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে মামুন হাসান মালিক ওরফে আদম সুফি সহযোগীদের নিয়ে নীলফামারী জেলার ডোমার থানার সাহাপাড়ায় প্রাক্তন কুইন্স কিন্ডার গার্ডেন স্কুল ঘরটি ভাড়া নিয়ে ডোমার বাজার ভোগ্যপণ্য সমবায় সমিতি নামক ব্যানার লাগিয়ে এলাকার সহজ-সরল নারীদের টার্গেট করে প্রতারক চক্রটি সমবায় সমিতির মাধ্যমে লোভনীয় অফার দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া শুরু করে। সমবায় সমিতির মাধ্যমে কয়েকজন নারী সদস্য প্রাথমিকভাবে তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মূল টাকাসহ লভ্যাংশ প্রাপ্ত হলে এলাকার অধিকসংখ্যক মহিলা নিজের সহায় সম্বল বিক্রি করে চটকদার এই সমিতির সদস্য হন।
এভাবে সমবায় সমিতির আড়ালে এই প্রতারক চক্রটি মাত্র দুই মাসে ৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করে এবং আত্মসাতের উদ্দেশ্যে সমিতির অফিস বন্ধ করে পালিয়ে যায়। তাদের এমন প্রতারণার শিকার হয়ে ভুক্তভোগীরা বিভিন্নভাবে সমস্যায় পড়েন। কয়েকজন নারী তালাকপ্রাপ্ত হন।
এ ঘটনায় সমিতির এক নারী সদস্য হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।মেজর মঈন হাসান আরও বলেন, প্রতারণার শিকার সমিতির প্রায় শতাধিক নারী সদস্য গত ২০ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি দেন। সেই সঙ্গে নীলফামারীর ডোমার থানায় গত ২৪ জানুয়ারি চার প্রতারকের নামে মামলা করেন। একই সঙ্গে র্যাব-১৩-এর কাছে একটি অভিযোগ দেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে র্যাব বিষয়টি অনুসন্ধান ও তদন্ত করে প্রতারক চক্রের মূলহোতা মামুন হাসানকে ঢাকার সাভারের এক আত্মীয়ের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন মামুন হাসান। তার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তার করা হবে বলেও জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে র্যাব বিষয়টু অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনা করে প্রতারণা চক্রের মূল হোতা মামুন হাসান মালিক কে ঢাকার সাভারের নিকট আত্মীয়ের বাসা থেকে গ্রেফতার করে।
প্রাথমিকভাবে প্রতারক মামুন হাসান নীলফামারী জেলার এই প্রতারণার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে এবং তার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। এ সময় র্যাব-১৩ এর এএসপি (মিডিয়া) সামুয়েল সাংমাসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এম২৪নিউজ/আখতার